গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় একদল বখাটে যুবক ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শ্রীপুরের মাওনা এলাকার ইমাম হাদিউল ইসলামের মেয়ে ফারিহা (১৬) স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। দীর্ঘ দিন ধরে একই এলাকার মো. আবিদ (২১) তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আবিদ তার সহযোগীদের নিয়ে ফারিহাকে কু-প্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিয়ে আসছিল। মূলত দীর্ঘদিনের এই উত্ত্যক্তকরণ এবং বখাটেপনাই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে আবিদ ও তার সহযোগীরা ফারিহাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন সকালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ১৫ এপ্রিল সকালে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ উঠেছে, বেলা ১১টার দিকে আবিদ ও সুমিতের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি নামধারী দল এবং আরও ২৫-৩০ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাদিউল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ফারিহাকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে আনে। পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং মারধর করে ছাত্রীকে দ্বিতীয়বারের মতো অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান সজল জানান, ছাত্রীকে উদ্ধারে প্রথম দফায় সহায়তা করেছিলেন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসাইন পাপ্পুসহ কয়েকজন কর্মী। তবে দ্বিতীয়বার যখন সশস্ত্র হামলা হয়, তখন তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ছাত্রীর বাবার ফেসবুক লাইভে ছাত্রদলের নাম আসা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে, হামলার সময় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। মূলত বখাটে আবিদ ও তার সঙ্গীরাই এই সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর `৯৯৯`-এ কল করা হলেও পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হাদিউল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আমরা প্রাণভয়ে কিছুই করতে পারিনি। ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, এখনও আমার মেয়েকে ফিরে পাইনি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার (ওসি) নাছির আহমদ ছুটিতে থাকায় মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চাঁন। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইমামের মেয়েকে অপহরণের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্তের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে।
কালের সমাজ/কে.পি

