শি*শু নি*র্যাতন ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় যখন দেশজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং বিচার দাবির আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ৭ বছর বয়সের এতিম শি*শু ধ*র্ষণের মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদে ইমামের বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
আটককৃত মসজিদের ইমাম হাফেজ মাহবুব, ওরফে মাহবুল্লাহ (২৩) স্থানীয় আগরপুর বাসস্ট্যান্ডের একটি মাদ্রাসায় হাফিজি পড়ালেখা শেষ করেন। সে গত এক মাস যাবৎ উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি মসজিদে ইমাম হিসেবে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়াতো। সে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার খলিশাপুর (বনপাড়া) গ্রামের মৃত শাহেদ আলী আকন্দের ছেলে।
রবিবার (২৪ মে, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুপুরে শিশুটি মসজিদে হুজুরের জন্য খাবার নিয়ে গেলে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার। তিনি বলেন, “শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কুলিয়ারচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ ছাড়াই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । তদন্তের অংশ হিসেবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। যারা শিশুদের সঙ্গে এমন অমানবিক কাজ করে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়, যাতে আর কোনো মা-বাবাকে এমন কষ্ট সহ্য করতে না হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পর জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাও সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। শিশু সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি আবারও সামনে এসেছে।
কালের সমাজ/কে.পি

