ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টেকনাফে কোটি টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ২

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | মে ২৪, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম টেকনাফে কোটি টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ২

টেকনাফে ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড লাইনের কাজ করার অজুহাতে ভাড়া নেওয়া একটি টিনশেড ঘরে গড়ে তোলা হয়েছিল জাল নোট তৈরির কারখানা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজার ও পশুর হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অবশেষে ১২ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুইজনকে আটকের পর অভিযান চালিয়ে সেই গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা মোচনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজনকে আটক করে বিজিবি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ লাখ টাকার জাল নোট। আটকরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার আলাউদ্দিনের ছেলে ফেরিওয়ালা নাজমুল (৩০) এবং টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে টমটম চালক আজিজুর রহমান (৩৬)। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২-বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার জানান, জাল নোট পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির তিনটি আভিযানিক দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়।

একপর্যায়ে মোচনী এলাকায় স্থাপন করা চেকপোস্টের সংকেত অমান্য করে একটি টমটম পালানোর চেষ্টা করলে মোটরসাইকেল টহল দল ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। পরে টমটমে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে ১২টি এক হাজার টাকার নোটের বান্ডেলসহ মোট ১২ লাখ টাকার জালনোট এবং ৫ হাজার টাকার আসল বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাজমুল ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব জালনোট হ্নীলা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে জানান। এরপর আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাদিমুড়া বাজারের পূর্ব পাশে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় বিজিবি।

তবে অভিযানের খবর পেয়ে জালনোট কারবারিরা ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান ছোট্ট সেই টিনশেড ঘরেই গড়ে তোলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ জাল নোট তৈরির কারখানা। সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুইটি অত্যাধুনিক প্রিন্টার, জাল নোট ছাপানোর কালি, বিশেষ কাগজ এবং আনুমানিক কোটি টাকার ছাপানো জাল নোট উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র তিন দিন আগে দুই যুবক নিজেদের ব্রডব্যান্ড ও ওয়াই-ফাই লাইনের কর্মী পরিচয় দিয়ে ঘরটি ভাড়া নেন। মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় নেওয়া সেই ঘরেই গোপনে চলছিল জাল নোট তৈরির কাজ।

বাড়ির মালিক রশিদ আহমদের স্ত্রী নুর হাবিবা বলেন, ওরা বলেছিল ইন্টারনেট লাইনের কাজ করবে। তাই ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তাদের আসল কাজ কী সেবিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতামনা।হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পশুর হাট ও স্থানীয় বাজারকে টার্গেট করা হয়েছে। বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার বলেন, ঈদুল আজহায় গবাদিপশু কেনাবেচার সময় জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল হোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!