ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপের আগেই উত্তেজনা, মার্কিন নির্দেশনা মানবে না কঙ্গো

স্পোর্টস ডেস্ক | মে ২৪, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম বিশ্বকাপের আগেই উত্তেজনা, মার্কিন নির্দেশনা মানবে না কঙ্গো

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এক চরম নাটকীয় দ্বৈরথে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হবার পর আমেরিকা সোজা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মাটিতে পা রাখার আগে কঙ্গো দলকে টানা ২১ দিন কঠোর আইসোলেশনে থাকতে হবে, অন্যথায় তাদের দেশে ঢুকতেই দেওয়া হবে না। 

তবে, পরাশক্তি আমেরিকার এই চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কঙ্গো ফুটবল দল জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে একচুলও পরিবর্তন আনছে না।

এই স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত শুক্রবার, যখন হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্স ফর দ্য ওয়ার্ল্ড কাপের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি ইএসপিএন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গো দলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্কিন প্রশাসন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

জুলিয়ানি শনিবার আবারও স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কঙ্গোকে খুব পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছি, ১১ জুন হিউস্টনে আসার আগে বেলজিয়ামে যেখানে তারা অনুশীলন করছে, সেখানে টানা ২১ দিন তাদের কঠোর ‘বায়ো-বাবল’ বা জৈব-সুরক্ষা বলয় বজায় রাখতে হবে। আমরা কঙ্গো সরকারকেও সতর্ক করেছি, এই নিয়ম না মানলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। এর চেয়ে ভালো করে বলা সম্ভব নয়।

বিশ্বকাপের কে-গ্রুপে থাকা কঙ্গোর মূল বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা আমেরিকার হিউস্টনে। আগামী ১৭ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে পা রাখা আফ্রিকার এই দেশটির মিশন শুরু হওয়ার কথা। এরপর ২৩ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়া এবং ২৭ জুন আটলান্টায় উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।

আমেরিকার এমন ‘একঘরে’ করার হুমকির মুখেও কঙ্গো শিবিরের মেজাজ বেশ চড়া। দলের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং তার ছয় দিন পর স্পেনের কাদিজে চিলির বিপক্ষে পূর্বনির্ধারিত প্রীতি ম্যাচগুলো তারা খেলবেই। প্রীতি ম্যাচ খেলতে বেলজিয়াম ও স্পেন ভ্রমণ করলে আমেরিকার দেওয়া ২১ দিনের আইসোলেশনের শর্তটি সরাসরি লঙ্ঘিত হয়।

নিজেদের অনড় অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে কঙ্গোর এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়ই ডিআর কঙ্গো থেকে আসেননি। কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রেসহ পুরো স্কোয়াডের সবাই ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। শুধু চলতি সপ্তাহের শুরুতে কঙ্গো থেকে দু’চারজন কর্মকর্তা বেলজিয়ামের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী সপ্তাহে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় ভক্তদের দেয়া তিন দিনের এক জমকালো বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল করেছে দলটি।

এদিকে কঙ্গো ও প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ইবোলার এই বিরল স্ট্রেনটি জাতীয় মহামারীতে রূপ নেয়ার ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে শুক্রবার সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং একে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের এক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গোতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৭৫০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৭৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একদিকে প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভয় আর মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া কঙ্গোর ইউরোপ-ফেরত ফুটবলারদের খেলার জেদ, সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এক চরম গরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কঙ্গো শেষ পর্যন্ত হিউস্টনের বিমান ধরতে পারে নাকি ট্র্যাজেডির শিকার হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!