ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জাজিরায় কৃষি শ্রমিক নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

জাজিরা উপজেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর | আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম জাজিরায় কৃষি শ্রমিক নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

শরীয়তপুরের জাজিরায় কৃষি শ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি এলাকার জামাল সরদার দুই কৃষি শ্রমিককে তাঁর জমিতে পাট কাটতে যেতে বলেন। একই শ্রমিককে নিজের জমিতে কাজ করার জন্য বলেন স্থানীয় ইদ্রিস জমাদ্দার। পরে বৃষ্টি শুরু হলে ওই দুই শ্রমিক ইদ্রিস জমাদ্দারের জমিতে না গিয়ে জামাল সরদারের জমিতে পাট কাটতে যান। এ নিয়ে দুপুরে ইদ্রিস জমাদ্দার ওই দুই শ্রমিককে গালাগালি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সন্ধ্যায় স্থানীয় চেয়ারম্যান জালাল জমাদ্দার বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ চলাকালে ইদ্রিস জমাদ্দার তাঁর লোকজন নিয়ে জামাল সরদার ও তাঁর ভাই আমজাদ সরদারের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন জামাল পক্ষের লোকজন।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
জামাল সরদারের ভাই আমজাদ সরদার অভিযোগ করেন, ইদ্রিস জমাদ্দার ও তাঁর লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় নারীসহ পরিবারের কয়েকজন আহত হন। এক নারীকে মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হামলাকারীরা বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন আমজাদ।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, দুই কৃষি শ্রমিককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও গালাগালিতে গড়ায়। পরে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও হামলার অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে ইদ্রিস জমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাজিরা থানার  (ওসি) সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!