বাসায় বা অফিসে ওয়াইফাই রাউটার থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় নেটওয়ার্ক সুইচের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন রাউটারের পেছনের LAN পোর্টগুলো ভরে যায়, অথচ আরও একটা কম্পিউটার বা প্রিন্টার তারযুক্ত সংযোগ প্রয়োজন হয়, তখনই নেটওয়ার্ক সুইচের গুরুত্ব সামনে আসে।
রাউটার আসলে কী কাজ করে
রাউটারের মূল কাজ হলো ইন্টারনেট সংযোগকে বাসা বা অফিসের নেটওয়ার্কে বিতরণ করা, প্রতিটা ডিভাইসকে একটা করে আইপি ঠিকানা দেওয়া এবং ওয়াইফাই সিগন্যাল ছড়িয়ে দেওয়া। তবে একটা সাধারণ রাউটারে সাধারণত মাত্র ২ থেকে ৪টা LAN পোর্ট থাকে, ফলে তারযুক্ত সংযোগের জন্য জায়গা সীমিত থেকে যায়।
নেটওয়ার্ক সুইচ কী এবং কীভাবে কাজ করে
নেটওয়ার্ক সুইচ মূলত এমন একটা ডিভাইস, যা একটামাত্র নেটওয়ার্ক সংযোগকে একাধিক পোর্টে ভাগ করে দেয়। রাউটারের একটা খালি LAN পোর্টের সাথে একটা ৮ বা ১৬ পোর্টের সুইচ যুক্ত করলে একসাথে ৮ থেকে ১৬টা ডিভাইস তারযুক্ত সংযোগ পেয়ে যায়। সহজ ভাষায়, সুইচ একটা পোর্ট-সম্প্রসারণ সমাধান, রাউটারের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক যন্ত্র।
রাউটার থাকতেও সুইচ কেন প্রয়োজন হয়
কয়েকটা বাস্তব পরিস্থিতিতে সুইচ ছাড়া কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
পোর্ট সংকট : অফিসে একসাথে অনেকগুলো কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আইপি ক্যামেরা তারযুক্ত সংযোগ চাইলে রাউটারের সীমিত পোর্ট যথেষ্ট হয় না।
স্থিতিশীল সংযোগের প্রয়োজন : ওয়াইফাইয়ের তুলনায় তারযুক্ত সংযোগ অনেক বেশি স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির। সিসি ক্যামেরা মনিটরিং বা ফাইল সার্ভার চালানোর মতো কাজে, যেখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে সমস্যা হয়, সেখানে সুইচের মাধ্যমে তারযুক্ত সংযোগই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়।
ওয়াইফাই কনজেশন কমানো : একসাথে অনেক ডিভাইস ওয়াইফাইয়ের ওপর নির্ভর করলে গতি কমে যায়। কিছু ডিভাইস সুইচের মাধ্যমে তারযুক্ত সংযোগে নিয়ে গেলে ওয়াইফাইয়ের ওপর চাপ কমে, ফলে বাকি ডিভাইসগুলোও ভালো গতি পায়।
সুইচ কখন প্রয়োজন, কখন নয়
সব ব্যবহারকারীর জন্য সুইচ জরুরি নয়। যাদের বাসায় শুধু মোবাইল ও একটা ল্যাপটপ ওয়াইফাইয়ে চলে, তাদের জন্য আলাদা সুইচের প্রয়োজন সাধারণত থাকে না। তবে ছোট অফিস, সাইবার ক্যাফে কিংবা একসাথে অনেক ডিভাইসে তারযুক্ত সংযোগ প্রয়োজন এমন পরিবেশে সুইচ যুক্ত করাই বাস্তবসম্মত সমাধান বলে মনে করা হচ্ছে।
ম্যানেজড নাকি আনম্যানেজড
সাধারণ ব্যবহারের জন্য আনম্যানেজড সুইচই যথেষ্ট, এটি সংযোগ দিলেই কাজ শুরু করে, আলাদা কনফিগারেশনের প্রয়োজন হয় না। তবে বড় অফিসে যেখানে নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা সেটিংসের প্রয়োজন হয়, সেখানে ম্যানেজড সুইচ বেশি উপযোগী, যদিও দাম তুলনামূলক বেশি।
কেনার আগে যা মাথায় রাখা জরুরি
সুইচ কেনার আগে কতগুলো পোর্ট প্রয়োজন তা হিসাব করে নেওয়া উচিত, পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডিভাইস সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও মাথায় রাখা প্রয়োজন। গতির দিক থেকে গিগাবিট সুইচ এখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামেই পাওয়া যাচ্ছে, তাই পুরনো ১০০ Mbps সুইচের বদলে গিগাবিট মডেল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও পোর্ট-সংখ্যার মডেল যাচাই করে অনলাইনে নেটওয়ার্ক সুইচ কিনুন, যেখানে একাধিক ভেরিফায়েড বিক্রেতার পণ্য পাশাপাশি তুলনা করার সুযোগ রয়েছে।
পরিশেষে
রাউটার ও নেটওয়ার্ক সুইচ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক প্রযুক্তি। রাউটার ইন্টারনেট সংযোগ বিতরণ করে, আর সুইচ সেই সংযোগকে আরও বেশি ডিভাইসে ছড়িয়ে দেয়। ডিভাইস সংখ্যা বাড়তে থাকা বা তারযুক্ত সংযোগের নির্ভরযোগ্যতা প্রয়োজন এমন পরিবেশে সুইচ যুক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
কালের সমাজ/এসআর

