মহাকাশ থেকে রাতের আঁধারে কেমন দেখায় আমাদের চিরচেনা এই পৃথিবীকে? সেই অপরূপ ও বিরল দৃশ্যের কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে মহাকাশচারীদের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া এই ছবিগুলোতে দেখা গেছে, নিকষ অন্ধকারের বুকে শহরের কৃত্রিম আলো, দীর্ঘ উপকূলরেখা আর ভৌগোলিক বৈচিত্র্য কীভাবে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি যখন থাইল্যান্ড উপসাগরের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করছিল, ঠিক তখনই চমৎকার এই ছবিগুলো ধারণ করা হয়। ছবিতে আলোর তীব্র ও ঘন অংশগুলো নির্দেশ করছে বড় বড় শহর ও জনবহুল এলাকাকে। আর সরু আলোর রেখা ধরে চেনা যাচ্ছে দূরপাল্লার মহাসড়ক কিংবা বিভিন্ন দেশের সীমান্ত। বিপরীতে সমুদ্র, গহীন অরণ্য কিংবা মরুভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলগুলো ডুবে রয়েছে অন্ধকারে, কারণ সেখানে মানুষের তৈরি কৃত্রিম আলোর ছোঁয়া নেই বললেই চলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো শেয়ার করে নাসা ক্যাপশনে লিখেছে, ‘পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সব সময়ই রাত থাকে।’ সেই সঙ্গে রাতের পৃথিবীর এই মহাজাগতিক সৌন্দর্য সবাইকে উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
নাসার প্রকাশ করা ছবির কিছু অংশে নীল ও সবুজ রঙের ছোট ছোট আলোর বিন্দু চোখ কাড়ে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে নাসা জানায়, এগুলো মূলত সমুদ্রের বুকে স্কুইড বা বিশেষ সামুদ্রিক মাছ শিকারি নৌকার আলো। এই তীব্র আলো দেখে ছোট মাছ ও প্ল্যাঙ্কটন আকৃষ্ট হয়, আর সেগুলোকে শিকার করতে এসেই স্কুইডগুলো জেলেদের জালের কাছাকাছি চলে আসে। মহাকাশ থেকেও সেই আলোর বিচ্ছুরণ স্পষ্ট দেখা গেছে।

মহাকাশ গবেষকদের মতে, স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীর আলোকিত ও অন্ধকার অংশের এই পার্থক্য এতটাই স্পষ্ট যে, এর মাধ্যমে মহাদেশ ও বিভিন্ন দেশের সীমানার আকৃতি খুব সহজেই অনুধাবন করা যায়। মহাকাশচারীরাও প্রায়ই তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্ণনায় বলেন, স্পেস স্টেশন থেকে রাতের পৃথিবীর এই রূপ দেখা তাঁদের জীবনের অন্যতম সেরা ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
নাসার এই ছবিগুলো শুধু দেখার আনন্দই দিচ্ছে না, বরং পৃথিবীর কোথায় মানববসতি বেশি এবং কোন অঞ্চলে বিদ্যুতের ব্যবহার বা নগরায়ণ কেমন গতিতে হচ্ছে, তার একটি বৈজ্ঞানিক চিত্রও তুলে ধরছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছবিগুলো ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনদের অনেকেই মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘রাতের আঁধারেও আমাদের পৃথিবী কতটা শান্ত ও সুন্দর।’ আবার কেউ লিখেছেন, এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের প্রাত্যহিক নানা সংকটের চেয়ে এই মহাবিশ্ব কত বিশাল ও রহস্যময়।
কালের সমাজ/এসআর

