পিচ, খোয়া উঠে বেরিয়ে পড়েছে ইট। অনেক জায়গায় সেই ইটও উঠে গেছে। তারপর মাটি উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে। একটু অসতর্ক হলেই উল্টে যায় ইজি বাইকের মতো হালকা যান।
এমন অবস্থা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের। জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির আরেক নাম এখন দুর্ভোগ। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানায়, এই সড়ক ব্যবহার করে একটি আলিম মাদরাসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র, একটি বালিকা মাদরাসা, সরকারি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া রোগী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে একইরকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কটির খারাপ অবস্থার কারণে ব্যবসায় মারাত্মক মন্দা চলছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ফলে কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও সৃষ্টি হয় খানাখন্দ। তাদের মতে, সড়কটিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই করা প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নরসিংদীর মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করে। কটিয়াদী মডেল থানার সামনে থেকে লোহাজুরী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশই নাজুক। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতেও পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, কখনো কখনো যানবাহন উল্টেও যাচ্ছে। হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই সড়কের ঝাঁকুনির কারণে প্রসূতি রোগীর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধসংলগ্ন চালের মিল এলাকা থেকে থানা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টরের অতিরিক্ত চলাচলেও দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও দোকানের বারান্দা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
জালালপুরের ফেকামারা গ্রামের বাসিন্দা মানিক বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে আমাদের চরম কষ্ট হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে টেকসই কাজ হয় না। বছর না ঘুরতেই আবারো খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। আরসিসি ঢালাই করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’
ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। বৃষ্টি হলে গাড়ির চাকায় কাদাপানি ছিটকে দোকানের ভেতর পড়ে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’
মনির হোসেন, ফাহিম ও সবুজসহ কয়েকজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজে গিয়ে জামাকাপড় কাদাপানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, কিন্তু সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
অটোরিকশার চালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘২০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন ৪০ মিনিট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পরপর গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, আবার অনেক সময় গাড়ি উল্টেও যায়।’
লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের অবস্থাও একই। কটিয়াদীতে যেতে হলে মনে ভয় কাজ করে।’
কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক , ‘সরেজমিন সড়কটি পরিদর্শন করেছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
সারোয়ার হোসেন শাহীন
কালের সমাজ/কে.পি

