লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করে গ্রেপ্তার হওয়া গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহর বাসায় বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়নি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে এতথ্য উঠে এসেছে।
সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ, গত দুই মাসে তার বাসার বৈদ্যুতিক মিটারে ১০ হাজার টাকার বেশি বিল এসেছে, যা বিগত মাসের চেয়ে তার বেশি মনে হয়েছে। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিল বেশি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ গালাগাল করেন।
এ ঘটনার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার করে গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সিফাত আব্দুল্লাহ ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে কিনা এসব বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।
তাদের তদন্তে উঠে এসেছে সিফাতের বাসায় তিনটি মিটার রয়েছে। আর ওইসব মিটারে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন, ঠিক সেই পরিমাণেই বিল করা হয়েছে। বিল তৈরিতে পল্লী বিদ্যুতের কোনো ধরনের অনিয়ম এবং ব্যবহারের বেশি অতিরিক্ত কোনো বিল করা হয়নি। সিফাত তার নিজস্ব ক্ষোভ থেকে এভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল করেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।
পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর বাসার মিটারে জুলাই ও আগস্টে ১০ হাজার টাকার বেশি বিল এসেছে। আর পল্লী বিদ্যুতের তদন্তেও একই বিল হয়েছে। সিফাতের বাসার বিলের গ্রাহক কপির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে পাওয়া বিলের মধ্যে মিল রয়েছে।
গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুইতলা বিশিষ্ট বাড়িতে সিফাত আব্দুল্লাহর বাবা মো. সেকান্দার আলীর নামে তিনটি আবাসিক মিটারে জুলাই ও আগস্ট মাসে
S0004337, S0002185 ও S000424*7 নম্বর মিটারে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল আসে।
তদন্ত দেখা যায়, তাদের একটি মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিটের বিল হিসেবে ৩১৭ টাকা, জুনে ৫০ ইউনিটের ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের ১ হাজার ১৮২ টাকা ও আগস্টে ৭৫ ইউনিটের বিল আসে ৫১৩ টাকা। সব মিলিয়ে ওই মিটারে ৪ মাসে মোট ৩২০ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
আরেকটি মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিটে ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুন মাসে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাই মাসে ৪০০ ইউনিটের ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা ও আগস্ট মাসে ২৮৫ ইউনিটের বিল এসেছে ২ হাজার ৩৯৭ টাকা। সব মিলিয়ে ওই মিটারে ৪ মাসে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
এ ছাড়া অপর মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল হিসেবে ৮৪৭ টাকা, জুন মাসে ১২০ ইউনিটের ৬৯০ টাকা, জুলাই মাসে ২০৫ ইউনিটের ১ হাজার ৬৩৩ টাকা ও আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের বিল এসেছে ১ হাজার ৩৬২ টাকা। সব মিলিয়ে ওই মিটারে ৪ মাসে মোট ৬২৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
এখানে পল্লী বিদ্যুৎ চার মাসের বিল দেখিয়েছে। কিন্তু জুলাই ও আগস্ট মাসে সিফাতের গ্রাহক কপির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে পাওয়া বিলের মধ্যে মিল রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের হিসাবেও জুলাই ও আগস্ট মাসে বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আহসান কবীর বলেন, ওই বাসায় তিনটি মিটার পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, মিটারে কোনো সমস্যা নেই। এ ছাড়া বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম হয়নি। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, ঠিক সেই পরিমাণেই বিল করা হয়েছে। তবে ওই বাসায় কী ধরনের ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবহার করছে, তা পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে তারা দেখতে দেয়নি। বাসার ভেতর কাউকে ঢুকতে দেয়নি। এসব বিষয়েও তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কালের সমাজ/এসআর

