যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডিজিটাল কপি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিপুলসংখ্যক সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের অনুসন্ধানে ‘নেক্সাস’ নামে একটি ডার্ক ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এসব ড্রাইভিং লাইসেন্স বিক্রির তথ্য সামনে আসে। প্ল্যাটফর্মটির দাবি, তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য পরিচয়পত্র ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথির তথ্য রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করে সেগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক তথ্য ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সাইবার হামলার মাধ্যমে এসব তথ্য চুরি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনার সম্ভাব্য উৎস নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকা নাম, ছবি, জন্মতারিখ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে পরিচয় চুরি, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা এবং আর্থিক প্রতারণার মতো অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল কপি ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়লে তা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করা সম্ভব।
এদিকে এফবিআইয়ের তদন্তের দিকে এখন নজর রয়েছে। তথ্যগুলো সত্যিই কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলার মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে কি না এবং কতজন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এতে জড়িত, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে সরকারি পরিচয়পত্র ফাঁসের অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে।
কালের সমাজ/এসআর

