জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্য মূল্যসূচক ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে সংস্থাটির খাদ্য মূল্যসূচক ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা, এশিয়ায় সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব এবং ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার বর্তমান প্রবণতা বাজারে ঝুঁকি ফেরার একটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থায় বাধার কারণে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে। ইউরোপের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভুট্টা ও বিট থেকে চিনি উৎপাদন এবং গবাদিপশু পালনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সম্ভাব্য এল নিনোর কারণে এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আগস্টে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক জুলাইয়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে এই সূচক ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। চিনির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে—আগস্টে এর মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ হয়েছে।
এদিকে আরেক পূর্বাভাসে এফএও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে মোট শস্য উৎপাদন ২ দশমিক ৯৮০ বিলিয়ন মেট্রিক টন হতে পারে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় নতুন হিসাব ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কম। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে।
সংস্থাটির মতে, এমনটি হলে ২০১৮ সালের পর এক বছরে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের ফলে সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

