ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষে ব্যবসায়ী খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষে ব্যবসায়ী খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যু

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার ‍‍`রেনেসাঁ হোটেল‍‍`-এর বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক ব্যবসায়ী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান ওরফে সালমান (২৮) নামে আটক আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেনেসাঁ হোটেলের দোতলার বারে এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। নিহত রাশেদ শহরের মধ্যম নুনুিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও ফিশারিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী। অন্যদিকে নিহত সোলাইমান বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হলে প্রতিপক্ষ বাইরে থেকে একদল যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে কাঁচ ও ধারালো ছুরি দিয়ে রাশেদের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফিশারিঘাট ও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার পরপরই বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সোলাইমানকে আটক করে উত্তেজিত জনতা প্রথমে হোটেলের নিচে এবং পরে ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে কয়েক দফায় গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় সোলাইমানকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পরই অভিযান চালিয়ে সোলাইমানকে উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানান, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। একইসঙ্গে আলামত সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। বারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে গণপিটুনিতে সোলাইমানের মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তরের সময় তার শারীরিক অবস্থা এবং গণপিটুনিতে প্রত্যক্ষভাবে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!