ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশের বিমান খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, জানালেন নতুন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম দেশের বিমান খাতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা, জানালেন নতুন মন্ত্রী

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসেই দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত নিয়ে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসের সমন্বয় বাড়ানো, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার। নতুন নেতৃত্বে একটি সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কাজের গতি বাড়াতে সপ্তাহের একটি দিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অথবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক ও সিডনিতে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় মান অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথ সহজ হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এ রুটে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সিডনিতেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকটের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানো যাচ্ছে না বলে জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত উড়োজাহাজের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।


সংকট মোকাবিলায় পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে পরের বছর থেকেই নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখতে লিজে উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি জানান, ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। মূল্যায়ন শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর কাজ শেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সময় আরও এক-দুই মাস বাড়ানো হতে পারে।

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিমানমন্ত্রী। আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।


ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকায় বিমানবন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ হাজার ফুট থেকে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রানওয়ে সংস্কার ও একটি ছোট টার্মিনাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে স্থানীয় ও সেখানে কর্মরত বিদেশিদের যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রী হয়রানি কমাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতকে আধুনিক, কার্যকর এবং যাত্রীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!