নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট দালালদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নোয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর মোস্তাফিজুর রহমান নিশান, শাহাদাত হোসেন ও মনির উদ্দিন নামের তিন ব্যক্তি এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা-এন্ট্রি অপারেটর নাজমুল ও তামান্নাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট দালালদের সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বেগমগঞ্জ উপজেলার ঠিকানা দেখিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি অর্থ নেওয়া হয়।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে বেগমগঞ্জে এনে ভোটার করার অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ভোটার নিবন্ধনের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে ওই অর্থ লেনদেনের সঙ্গে নির্বাচন অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দালালচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ডাটা-এন্ট্রি অপারেটর নাজমুল ও তামান্নাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধানের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধেও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও যথাযথ সেবা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন আগে আবেদন করেও এক নারী প্রয়োজনীয় সেবা পাননি। বরং ব্যক্তিগতভাবে অফিসে উপস্থিত হওয়ার পরও তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত হয়রানি বা সেবাবঞ্চনার বিষয় নয়, বরং ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক), নোয়াখালী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের তদন্তপূর্বক সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন- বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের অভিযোগের বিষয়ে ইতিপূর্বে একটি তদন্ত হয়েছে। আরেকটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

