ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, সাময়িক বরখাস্ত দুই কর্মকর্তা

জেলা প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ | আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, সাময়িক বরখাস্ত দুই কর্মকর্তা

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত করা চাল ও গমের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল পাওয়ার ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার। খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্রের সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে গত বৃহস্পতিবার তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, ঘিওর খাদ্যগুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া গেছে। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে।

 এ ছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতিও শনাক্ত হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের গঠিত একটি কমিটি গত ২৫ আগস্ট ঘিওর খাদ্যগুদাম সরেজমিন পরিদর্শন করে মজুত যাচাই করে। এ সময় এসব গরমিল ধরা পড়ে। পরে বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালককে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে ওই দুই কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে খাদ্যগুদামের হিসাব ও প্রকৃত মজুত যাচাই করতে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল গুদাম পরিদর্শন করে হিসাব, খাতাপত্র ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করেছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ কারণে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য বিভাগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে। দাপ্তরিক হিসাব ও প্রকৃত মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে ঘিওর খাদ্যগুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। নিরীক্ষা ও যাচাই শেষ হলে গুদামটি খুলে দেওয়া হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!