এবার এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন পড়েছে। একাধিক বিষয়ে আবেদনের কারণে মোট প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়েছে। এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক খাতা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
তবে আবেদন করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। পুনর্নিরীক্ষণের পর কোনো শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে কলেজে ভর্তির আবেদনের জন্য তাকে নতুন করে সময় দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিজি প্রেস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস। জিপিএ-৫ পাওয়ার স্বপ্ন থাকলেও তিনি পেয়েছেন ৪ দশমিক ৮৩। তাই চারটি বিষয়ে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন তিনি।
এবার গত পাঁচ বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি আবেদন পড়ায় নিজের খাতা আদৌ পুনর্নিরীক্ষণ হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন জান্নাতুল।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী। অনেকে একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়েছে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতা।
এত বিপুলসংখ্যক খাতা অল্প সময়ে পুনর্নিরীক্ষণ করা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বিপুলসংখ্যক খাতা অল্প সময়ে দেখা প্রায় অসম্ভব। এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা সবার খাতাই দেখা হবে। কোনো শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে কলেজে ভর্তির আবেদনের জন্য তাকে নতুন করে সময় দেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক খাতা সুষ্ঠুভাবে পুনর্নিরীক্ষণ করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।
আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হবে। আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল ১০ সেপ্টেম্বরের পর প্রকাশ হতে পারে।
কালের সমাজ/এসআর

