ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বৃক্ষরোপণ, পোনা অবমুক্তকরণসহ নানা আয়োজনে বাকৃবি ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাকৃবি | আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম বৃক্ষরোপণ, পোনা অবমুক্তকরণসহ নানা আয়োজনে বাকৃবি ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

গৌরব ও ঐতিহ্যের ৬৫ বছর পেরিয়ে ৬৬-তে পদার্পণ করেছে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ ও ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কবুতর অবমুক্তকরণ মধ্য দিয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

এর আগে সকাল ১০টায় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপাচার্য বাসভবনের সামনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হেলিপ্যাডে এসে শেষ হয়। পরিবর্তিত সেখানে কবুতর অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড্ডয়ন করা মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী শেষে হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে বাকৃবি উপাচার্যের বাস ভবন সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে সব মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক ও সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যবৃন্দসহ সকল বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো.শহীদুল হক বলেন, কোনো গবেষণা সফল করতে হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে কাজ করে যেতে হয়। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর পর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেসব প্রযুক্তির প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো এখন থেকেই নির্ধারণ করে উন্নয়নের কাজ করতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে গত ৬৫ বছর ধরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পুষ্টি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে আসছে। তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে এই দায়িত্ব পালনের করে যেতে হবে।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬১ হাজার ৬৯৯ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশ বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশ সদস্য, শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসন, শিক্ষকতা সহ গবেষণা ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎তিনি আরও বলেন, দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জন কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও গবেষক সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল। এই অর্জন শেষ নয়, বরং এটি একটি সূচনা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার নিজস্ব মহিমা ও গৌরব নিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!