উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি পুকুরপাড় সংলগ্ন এক মাত্র কাঁচা রাস্তাটি যেন উন্নয়নের বাইরে পড়ে থাকা এক জনপদের চিত্র। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাস্তাটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি পরিণত হয় কাদামাটির পথে।
রাস্তাটির দুই পাশে বসবাস করেন শতাধিক পরিবার। প্রতিদিন এই কাদা মাড়িয়েই কোমলমতি শিশুদের যেতে হয় স্কুলে। শুধু শিশুরাই নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েন বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষরাও। গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনও এই পথকে ঘিরেই। কৃষকের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া, নারীদের সরকারি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ সবকিছুতেই ব্যবহার করতে হয় জরাজীর্ণ এই কাঁচা রাস্তা। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাশ্ববর্তী কয়রা সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও শাকবাড়িয়া স্কুল আ্যন্ড কলেজে ও ৪নং কয়রা প্রাথমিক বিদ্যালয় রেয়েছে । রাস্তার মাঝে বসবাসকারী এসব শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের বৃষ্টির সময় চলতে হয় প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ নিয়ে। ইউনিয়ন পরিষদ বা এলজিইডির মাধ্যমে দ্রুত রাস্তাটি ইট সলিং দ্বারা পাকা করণের দাবি জানান তারা। ঐ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তাটি কাঁচা, বছরের পর বছর এভাবেই চলাচল করতে হয় আমাদের। বৃষ্টির দিনে শিশুদের স্কুলে যেতে জামা-কাপড় ও জুতা কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় স্কুলে যেতেও সমস্যা হয়। নাজমা খাতুন নামের এক গৃহবধূ বলেন, প্রতিদিন গৃহস্থালি কাজের জন্য সরকারী পুকুরে পানি নিতে যেতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের বিষয়টি খুব কঠিন। আমরা চাই দ্রুত রাস্তাটি ইট দ্বারা পাকা করা হোক। কয়রা সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ১ কিলোমিটার লম্বা এই রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের এক অর্থ বছরের যে বজেট পাই সেটা দিয়ে সম্ভাব নয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আমি যে বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে প্রায় ৬ চেইনের মতো পাকা করণ করেছি। বরাদ্দ পেলে আগে এই রাস্তাটি পাকা করা হবে। কয়রা সদর ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়রাম্যান এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে যে বরাদ্দ পেয়েছিলাম সেটা দিয়ে ওই রাস্তার এক মাথা থেকে কিছু অংশ কাজ করা হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে ৮নং ওয়ার্ডের ওই রাস্তাটির কাজ করা হবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্য দূর্ভোগ লাঘব হবে। এ জন্য আধুনিক সভ্যতার এক যুগ ধরে একটি রাস্তা কেন এমনই পড়ে থাকবে? দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
কালের সমাজ/কে.পি

