ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

যা জানালেন বাইকের সেই তরুণী, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

কালের সমাজ ডেস্ক | আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম যা জানালেন বাইকের সেই তরুণী, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মাঝরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার রহস্যময় ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশও। এমন অবস্থায় সেই তরুণীর সন্ধান মিলেছে। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

ওই তরুণী জানান, তিনি এখন ভালো আছেন। বেঁচে আছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। এতটুকু কথা বলেই ফোন রেখে দেন। যদিও তিনি প্রথমে সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

এ বিষয়ে ওই তরুণীর একাধিক স্বজনের বক্তব্যও মিলেছে।

বাইকে থাকা তরুণীর বড় বোনের স্বামী জানিয়েছেন, ‘রিয়া (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করে নেই। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে সে (তরুণী) রাগ কর চলে যায়। তারপর ওই ছেলের সঙ্গে হয়তো ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।’

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে একটি বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।


মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থার সূত্র জানায়- মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।

মোটরসাইকেল মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও যিনি চালকের আসনে ছিলেন তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ আছে। এই যুবক বাইকে থাকা তরুণীর স্বামী পরিচয় দিয়েছেন। তবে এই তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আলম তার স্বামী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’

এই তরুণী আগে দুটি বিয়ে করেছেন। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করেছেন। তবে প্রাপ্ত সকল তথ্য এখন পর্যন্ত যাচাই করা যায়নি।

তার বড় বোনের স্বামী দাবি করেন, বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু মেয়েটিকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তাকে রেখে বোনকে ফোন দেন আলম।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!