রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এক গৃহকর্মী কিশোরীর মরদেহ ফেলে রেখে পালানো সেই গৃহকর্তা, তার স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিনজনকে শাহবাগ থানার হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এসময় আসামিদের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন, মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং ফয়সালের শ্বশুর রেশমার বাবা এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাহফুজা আক্তার আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। তবে রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাদেরকে মূল এজলাসে তোলা হয়নি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত মিম আক্তার গত প্রায় ১ বছর ধরে আসামিদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে আসছিল। কাজ করার সময় আসামিরা তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। স্বজনদের কাছে ফোনে কাঁদাকাটি করে নির্যাতনের কথা জানালে উল্টো স্বজনদেরই ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে গত ১৩ আগস্ট সকালে ১নং আসামি ফয়সাল মিমের পরিবারকে ফোন করে জানায় যে, মিম বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৭ আগস্ট মিমের পরিবার আসামিদের বাসায় গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে চাপ দিলে আসামিরা তাদের গালিগালাজ করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট ঢামেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর গত ২০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় বাসাবো বাজার থানায় খবর পেয়ে শাহবাগ থানায় হাজির হন মিমের মা রাবেয়া বেগম। এরপর ২১ আগস্ট ভুক্তভোগী মিমের মা শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন এবং মিমের বাবা ফজলু মিয়া হাসপাতালে এসে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, মিমের মৃত্যুর পর অপরাধ ঢাকতে ও নিজেদের বাঁচাতে আসামিরা সুকৌশলে তার লাশ হাসপাতালে নিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই তারা দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করা সানারপাড়ের ফ্ল্যাট ছেড়ে ডেমরার বামৈল এলাকায় সপরিবারে আত্মগোপন করে। পরে গত ২১ আগস্ট দুপুর দেড়টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডেমরা থানার বামৈল এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
কালের সমাজ/কে.পি

