মাদকের ভয়াবহতা রোধ ও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের আয়োজনে এ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিস সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন শেখ মো. আরিফ বিল্লাহ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী জেলায় অবাধে মাদকের ছড়াছড়ি। বিজয়নগর থেকে শহরের প্রবেশপথ সীমনা সড়ক হচ্ছে মাদক পাচারের নিরাপদ জোন এবং উৎস জোন।
মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূলে মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সমাবেশে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সম্মিলিতভাবে মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আটক হলে আদালত থেকে তাদের জামিনে এগিয়ে না আসার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাদকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে যেতে চাইলে তাদেরকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যও আহবান জানিয়েছেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এডভোকেট গোলাম সারোয়ার খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কলেজের সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খান, ইসলামি আন্দোলন সংগঠনের সহসভাপতি নিয়াজুল করীম, মো. আরমান, মিজানুর রহমান, জেলা জামায়াতে আমির মোবারক হোসেন, এনসিপি জেলা আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন।
আলোচনা শেষে মাদক বিরোধী বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফারুকী পার্কে শেষ করা হয়।
এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সুধীজন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কালের সমাজ/কে.পি

