ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

পদমর্যাদা ও স্বীকৃতির লড়াইয়ে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিকের ৫ হাজার প্রধান শিক্ষক

কালের সমাজ ডেস্ক | আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম পদমর্যাদা ও স্বীকৃতির লড়াইয়ে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিকের ৫ হাজার প্রধান শিক্ষক

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। কিন্তু এক যুগের বেশি সময় ধরে নিজেদের ন্যায্য পদমর্যাদা ও স্বীকৃতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের সময় বৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকলেও, গেজেটভুক্তির সময় তাঁদের পদবি নেমে গেছে ‘সহকারী শিক্ষক’-এ। পদমর্যাদা, চাকরিগত সুবিধা ও পেশাগত বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে গেজেটভুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজপথের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই শিক্ষকেরা।

বাংলাদেশ নব জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন জানান, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। নিয়ম ও পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয়করণের সময় কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের একই পদে গেজেটভুক্ত করার কথা ছিল। প্রথম ধাপে ২১ হাজার ১৯২ জন প্রধান শিক্ষক সেই স্বীকৃতি পেলেও বাদ পড়ে যান অনেকে।

প্রথম ধাপের অবশিষ্ট কিছু কমিউনিটি ও রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়, দ্বিতীয় ধাপের ২ হাজার ২৫২টি এবং তৃতীয় ধাপের ৯৬০টি বিদ্যালয় মিলে মোট ৫ হাজার ১ জন শিক্ষক এই বৈষম্যের শিকার হন। জনপ্রশাসন থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি হলেও সুরাহা না মেলায়, ২০১৭ সালে নিজেদের অধিকার আদায়ে হাইকোর্টের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বঞ্চিত এই শিক্ষকেরা।

বর্তমানে ‘বাংলাদেশ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক গেজেট থেকে বাদপড়া প্রধান শিক্ষক ঐক্যজোট’-এর ব্যানারে শিক্ষকেরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন তাঁরা।

বঞ্চিত শিক্ষকদের দাবি, এটি শুধু একটি চাকরির পদবি নয়; বরং তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, অবদান ও আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। সীমিত বেতন, অনিশ্চিত চাকরি ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁরা বছরের পর বছর শ্রেণিকক্ষে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলেছেন। অনেকেই নিজের সন্তানের চেয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তেই বেশি নিবেদিত থেকেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেক শিক্ষক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ও পদকও পেয়েছেন। অথচ নিজ কর্মক্ষেত্রে তাঁরা আজ প্রাপ্য মর্যাদাটুকু থেকে বঞ্চিত।

বিষয়টি বর্তমানে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। শিক্ষকেরা আশা করছেন, যোগ্যতা ও পূর্ববর্তী দায়িত্বের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালত দ্রুত একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে। তাঁদের বিশ্বাস, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকেই আরও মজবুত করবে। এখন শুধু একটি চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ও সম্মানজনক সুরাহার অপেক্ষায় রয়েছেন মানুষ গড়ার এই কারিগরেরা।

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!