খুলনায় পুলিশি হয়রানি এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে ট্যাংকলরী রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৫আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কে ফুলতলা থেকে পথের বাজার পর্যন্ত এ কর্মসূচী পালন করে আন্দোলনকারীরা । খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সকাল ৯টায় শ্রমিকরা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন না করে খুলনা -যশোর মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
এ সময় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । ট্যাংকলরী শ্রমিকরা প্রথমে ফুলতলা থানার সামনে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে খানজাহান আলী থানার পথের বাজার এলাকায় তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ের সভাপতি এনাম মুন্সী। জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ট্রাংকলরী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা মীর মোকসেদ আলী ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিম এ সময় বক্তব্য রাখেন । সমাবেশ বক্তরা বলেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুলিশ ও প্রশাসন রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি করছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানি তেল লোডের আগে টার্মিনালেই কাগজ পরীক্ষা করার কথা। রাস্তায় গাড়ি থামানো বিপজ্জনক, কারণ প্রতিটি ট্রাংকলরীতে প্রায় ৯ হাজার লিটার দাহ্য পদার্থ থাকে, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।জ্বালানি তেলবাহী গাড়ীগুলো সিঙ্গেল ট্রিপ দিয়ে থাকে। এবং দেশের সব সরকারী ছুটির দিন ট্যাংকলরীগুলো বন্ধ থাকে বিধায়, অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় ট্যাংকলরীর ইঞ্জিন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ স্বাভাবিক ভাবেই সচল থাকে।
খুলনা বিভাগের ১০ টি জেলা সহ বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচটি জেলায় কোন জ্বালানি তেল ডিপো অবস্থিত না থাকার কারণে এই সমস্ত জেলা থেকে ট্যাংকলরী দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার জন্য খুলনা জেলার জ্বালানি তেল ডিপোতে আসতেই হয়। জ্বালানি বাহী ট্যাংকলরী গুলো খুলনা বিভাগ সহ ফরিদপুরের পাঁচটি জেলার গাড়ি খুলনায় যাহাতে অবাধে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

