দৈনিক কালের সমাজসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের হয়রানি, অনিয়ম এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বাদলি করা হলো উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান কবিরকে।
আজ (৩০ আগস্ট) রোববার উপসচিব নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়। মো. শাহজাহান কবিরকে যশোরের ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারে বদলি করা হয়ছে। অন্যদিকে যশোর ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারের উপ-পরিচালক হালিমা খাতুনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের হয়রানি, অনিয়ম এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ বহু দিনের। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাধারণ নিয়মে আবেদনকারীদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হলেও দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত ও সহজেই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, নির্দিষ্ট কিছু ই-মেইল আইডি বা কোড ব্যবহার করে আবেদন পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো সহজে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, ALUMINA923, SABBIR78AH1571, SAIFUL99, ML, MDMAMONSHO, 957JL, ALMINA960-এর মতো কয়েকটি আইডি ব্যবহার করে আবেদন করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কম্পিউটার সেবাদাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত কাজ করেন, দাবি করেন, "প্রতিটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের আবেদনের বিপরীতে অফিসে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আবেদন দেখেই কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন এটি কোন দোকান বা কার মাধ্যমে এসেছে।" তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
সরেজমিনে কথা হয় কয়েকজন পাসপোর্টপ্রত্যাশীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তাদের ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আশুগঞ্জ থেকে নতুন পাসপোর্টের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আসেন শারমিন আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অফিসে পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। সঠিক কোনো নির্দেশনা না দিয়ে তাকে ১ম তলা, ২য় তলা এবং নিচতলায় বারবার পাঠানো হয়।

ভিডিও বক্তব্যে শারমিন আক্তার বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে বসিয়ে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে ১০৫ নম্বর কাউন্টারের/রুমের কম্পিউটার অপারেটর বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কাজটি করে দেওয়ার জন্য তার কাছে ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় হয়রানির শিকার হওয়ার পর তিনি সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকের সহযোগিতা চান এবং তাদের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানান। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে তার কাজটি সম্পন্ন হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে কালের সমাজের অনুসন্ধানে প্রায় ২১ জন দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে পুরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পাসপোর্ট অফিস নিয়ন্ত্রণ করছে, অনুসন্ধানে আরও পাসপোর্ট অফিসে তিন কর্মকর্তার জড়িত রয়েছে বল তথ্য রয়েছে।
কালের সমাজ/এসআর

