ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশটির বিক্ষোভকারীদের হাতে সরাসরি অস্ত্র তুলে দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর টেড ক্রুজ। তার মতে, ইরানের বর্তমান সরকারকে সরানোর দায়িত্ব ইরানের জনগণেরই হওয়া উচিত। এ জন্য মার্কিন সেনা পাঠানোর বদলে বিক্ষোভকারী ও কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, স্থানীয় সময় রোববার (৩০ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টেড ক্রুজ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পকে যে আহ্বান জানিয়ে আসছি, তা হলো—বিক্ষোভকারীদের, ইরানের জনগণকে অস্ত্র দেয়া।’
সশস্ত্র সেনাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে শুধু পাথর হাতে দাঁড় করানো ‘ন্যায্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইরানের বর্তমান সরকারকে সরানোর দায়িত্ব ইরানের জনগণেরই হওয়া উচিত, সেখানে মার্কিন সেনাদের সরাসরি অংশ নেয়া উচিত নয়।
ক্রুজ বলেন, ‘স্থলপথে আমেরিকান সেনা পাঠানোর’ বদলে ইরানের জনগণেরই বর্তমান সরকারকে সরিয়ে দেয়া উচিত।
ট্রাম্প অবশ্য এর আগে দাবি করেছিলেন যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের গোপনে অস্ত্র দেয়ার আগের কয়েকটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। তার ওই বক্তব্যের পরই ক্রুজের নতুন করে অস্ত্র দেয়ার আহ্বান সামনে এলো।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, কুর্দি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ‘অনেক’ আগ্নেয়াস্ত্র পাঠিয়েছিল। তবে তার ধারণা, ওই গোষ্ঠীগুলো সেসব অস্ত্র নিজেদের ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছিল। অস্ত্রগুলো যাদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তাদের কাছে তা না পৌঁছানোয় তিনি সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর প্রতি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ইচ্ছাও আংশিকভাবে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়ে এক ভিডিও ভাষণে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বলেছিলেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এসেছে... আমরা কাজ শেষ করার পর আপনারা আপনাদের সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিন। এটি আপনাদেরই নেয়ার বিষয়।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এর আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের যৌথ অভিযান সাহসী ইরানি জনগণের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেয়ার পরিস্থিতি তৈরি করবে।’
কালের সমাজ/এসআর

