গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের ইউনিয়ন মোড় এলাকায় এক কৃষকের ফলবাগানে তাণ্ডব চালিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। চাঁদা না পেয়ে ওই বাগানের বিপুল সংখ্যক মাল্টা ও পেয়ারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগানমালিক আতাউর রহমান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে ও বাগানমালিক আতাউর রহমানের ভাষ্যমতে, তিনি বিগত প্রায় আট বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ও অর্থ বিনিয়োগ করে মুলাইদ গ্রামের ইউনিয়ন মোড় এলাকায় মাল্টা ও পেয়ারার বাগান গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করেছিল এবং এটিই ছিল তার জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। তবে গত কিছু দিন ধরে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা সাব্বির ও ছিফাত তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আতাউর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, সাব্বির ও ছিফাত বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছুদিন ধরে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। আমি সাধারণ একজন কৃষক, এত টাকা দেওয়া আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে সরাসরি হুমকি দেয় যে, চাঁদা না দিলে এলাকায় আমাকে আর কোনোভাবেই বাগান করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, চাঁদা না পেয়ে গত রাতে কিশোর গ্যাং প্রধান সাব্বির ও ছিফাতের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ও সংগঠিত দল তার ফলবাগানে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা মুহূর্তের মধ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাগানের ফলন্ত অসংখ্য মাল্টা ও পেয়ারা গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়। থোকায় থোকায় ফল ধরে থাকা গাছগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ আট বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি ও স্বপ্ন এক রাতেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে বলে জানান এই কৃষক। এই তাণ্ডবের ফলে তার লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর মতে, এলাকায় সাব্বির ও ছিফাত বাহিনীর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। চাঁদাবাজি, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো নানা অপকর্মে তারা যুক্ত। এভাবে একজন পরিশ্রমী কৃষকের ফলবাগান কেটে ফেলার মতো জঘন্য অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আতাউর রহমান বলেন, আট বছর ধরে রক্ত পানি করে এই বাগানটি দাঁড় করিয়েছি। আজ আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবের সঠিক বিচার চাই। দ্রুত সাব্বির, ছিফাতসহ অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী চক্র এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।
কালের সমাজ/কে.পি

