ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বিমানবন্দর এলাকায় প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই, ছাত্রদল-বিএনপির ৩ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম বিমানবন্দর এলাকায় প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই, ছাত্রদল-বিএনপির ৩ নেতা গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর পাঠানো ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বের হওয়ার পর সড়কে পথরোধ করে তাদের মারধর করা হয়। পরে সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

শনিবার রাতে এবং রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক রয়েছেন। মামলার এজাহারে তার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ বলেন, এক প্রবাসীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে ১ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে ২ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্তকে ৩ নম্বর আসামি এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী মো. সুমন উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী। একটি বিয়ে ও পারিবারিক ব্যবহারের জন্য গত ২৮ আগস্ট তার বড় ভাই মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান।

পরে সুমন তার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। সেখানে তার বড় ভাইয়ের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ গ্রাম করে মোট ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন তারা। এরপর ভাড়ায় নেওয়া একটি মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দর এলাকা থেকে রওনা হন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে তারা বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশের সড়কে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন। এ সময় সুমন ও রোহান মাইক্রোবাস থেকে নামতেই আসামিরা তাদের ঘিরে ধরেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় আসামিরা তাদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন এবং তাদের কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখান। এরপর তাদের মারধর করে সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তরা স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সুমন ও রোহানকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া এক পথচারী কৌশলে তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্তরা ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ আগস্ট বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন মো. সুমন।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের ওই তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!