ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। রবিবার (১৯ জুলাই) শহরের কাউতলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, ফারুকী বাজার, বর্ডার বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি কিনতে পারছেন না।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, টমেটো প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, সিম ৩০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, দেশি তিতা করলা ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা, শসা ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাল কুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ ১০০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, লতা ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি পিস ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সবজিই নয়, মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে আড়াইশ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সাদা ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষেত থেকে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, "আমরা প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভে সবজি বিক্রি করি। অনেক সময় কাঁচামাল পচেও যায়। তারপরও যতটা সম্ভব কম লাভে বিক্রি করার চেষ্টা করছি।"
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রতন নামে এক ক্রেতা বলেন, "সবজির দাম এত বেশি যে প্রয়োজনমতো কিনতে পারছি না। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।"
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, "আমরা প্রতিনিয়তই বাজার মনিটরিং করছি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কেউ অযৌক্তিকভাবে মূল্য বৃদ্ধি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।
কালের সমাজ/কে.পি

