ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আয়কর পরিশোধ করে আলোচনায় এসেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ও ভাঙারি ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ সরকার। তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান "মেসার্স মেঘলা মেশিনারিজ" এর পক্ষ থেকে গত অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে অকেজো ও পরিত্যক্ত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মাসুদ পারভেজ সরকারের ব্যবসার পরিধি এখন দিনাজপুরের গণ্ডি পেরিয়ে উত্তরাঞ্চল,রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্যান্টনমেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অকেজো মালামাল বিক্রির টেন্ডারে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দর দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিনিয়তই সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেঘলা মেশিনারিজ রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পাগলাপীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক লটে বিপুল পরিমাণ অকেজো মালামাল টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় করেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তিন দফায় ৯ হাজার ৬৮২ কেজি, ১০ হাজার ২৯২ কেজি এবং ৮ হাজার ৪৬৭ কেজি মালামাল কেনার তথ্য রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবরও একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও কয়েকটি আইটেমের অকেজো মালামাল ক্রয় করেন তিনি।
শুধু পল্লী বিদ্যুৎ নয়, পার্বতীপুরের বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাস (খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট) থেকেও টেন্ডারের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করেছেন মাসুদ পারভেজ সরকার। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ২৪টি আইটেমের চারটি ইএম লটের জন্য তিনি প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ টাকা ব্যয় করেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া দিনাজপুর সদর উপজেলার "দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড" এর স্ক্র্যাপ মেশিনারিজের দরপত্রে অংশ নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ সর্বোচ্চ ৫কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দর দিয়ে মালামাল ক্রয় করেন তিনি। সর্বশেষ চলতি মাসে পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সততা অটো রাইস মিলের অকেজো বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্রয় করেছেন। শুধু তাই নয়, যথযথ রাজস্ব দিয়েই ব্যবসা পরিচালনার কারণে ইতোমধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে তার প্রতিষ্ঠান।
ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২০টি পরিবারের প্রধান কর্মরত। যাদের প্রত্যেক দিনের হাজিরা আয়ের একমাত্র উৎস্য। এ প্রতিষ্ঠানের কাজের ওপর নির্ভর কর ঘুরে চলছে তাদের পরিবার চাকা।
তবে, ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। তাদের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পার্বতীপুর পৌর শহরের নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, টেন্ডারে অংশগ্রহণ, নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং যথাযথভাবে কর পরিশোধের মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন মাসুদ পারভেজ। তাই কোনো অপপ্রচার নয়, বরং সরকারি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতেই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম মূল্যায়ন করা উচিত। আমরা প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। তাই আমাদের ব্যবসায়িক কাজে কোন ভাবে বাঁধা প্রদান বা হয়রানী করা কোন ভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছি।
মাসুদ পারভেজ সরকার এ প্রতিনিধি কে বলেন, “সরকারের যথাযথ নির্দেশনা মেনে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান মেঘলা মেশিনারিজ পরিচালনা করছি। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি রাজস্ব হিসেবে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন কোটি টাকা আয়কর ও ভ্যাট দিয়েছি। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি প্রশাসন, সচেতন মহলসহ সবার সহযোগিতা ও দোআ চাই।”
কালের সমাজ/কে.পি

