ঢাকা রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
১৮ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে নিখোঁজ

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম কক্সবাজারে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে নিখোঁজ

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাটে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া শামীমের (প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মগনামা জেটিঘাটের নিচে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল। এর আগে সকাল ৬টা থেকে তাঁরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। 

নিহত শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলে উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্ত্রী করিমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে কুতুবদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন। বিয়ের এক বছর পর স্ত্রীকে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। মস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শামীম ও তাঁর স্ত্রী কুতুবদিয়া যাওয়ার জন্য মগনামা জেটিঘাটে বোটের অপেক্ষায় ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে বোট ঘাটে পৌঁছালে তাঁরা বোটে ওঠার জন্য সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যান।

 এ সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হলেও ডুবুরি দল না থাকায় শামীমের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোববার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
 

তিনি আরও জানান, মরদেহের সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনরা জানান, স্ত্রী করিমা অসুস্থ থাকায় তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখে আসার জন্য শনিবার চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন শামীম। কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মংলার পাড়া এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি। বিয়ের এক বছর পর স্ত্রীকে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কুতুবদিয়া দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তবে একজন মানুষ হিসেবে এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আনন্দের মুহূর্তে একজন জামাই সাগরে পড়ে নিখোঁজ—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘাটে নিরাপদ জেটি, পর্যাপ্ত আলো, রেলিং/ব্যারিকেড, প্রশিক্ষিত কর্মী, লাইফ জ্যাকেট ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চি

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!