প্রয়াত বলিউডের হি-ম্যান খ্যাত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ৮৯ বছর বয়সে তিনি গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) মৃত্যুবরণ করছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভারতের সিনেমার ছয় দশকের একটি সোনালি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো।
বর্ষীয়ান তারকার অভিনয়জীবন নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তার ব্যক্তিগত জীবনও বার বার উঠে এসেছে চর্চায়। ১৯৫৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর। তখনও অভিনয়সফর শুরু হয়নি অভিনেতার। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে মোট চার সন্তান ধর্মেন্দ্রের। দুই পুত্র সানি দেওল ও ববি দেওল। দুই কন্যা বিজেতা ও অজিতা।
১৯৬০ সালে ধর্মেন্দ্রের অভিনয়জীবনের শুরু। তখন প্রথম সন্তানের অর্থাৎ সানি দেওলের বাবা হয়ে গিয়েছেন অভিনেতা। ১৯৭০ সাল থেকে হেমা মালিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়েছিল ধর্মেন্দ্রের। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘রাজা রানি’, ‘জুগনু’র মতো ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন তারা। পর্দার রসায়ন বাস্তবেও প্রতিফলিত হতে শুরু হয়। ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখনও প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি মতে বিবাহিত ছিলেন অভিনেতা।

ধর্মেন্দ্রের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। শোনা গিয়েছিল, সেই সময়ে ধর্মেন্দ্র ও হেমা দু’জনই ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন। ভিন্নধর্মে বহুবিবাহের অনুমতি রয়েছে বলেই নাকি তারা ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন। কারণ ‘হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, আইনত একজন স্বামী বা স্ত্রীই থাকতে পারে। তবে এই জল্পনা কখনওই স্বীকার করেননি ধর্মেন্দ্র বা হেমা কেউই। তবে ধর্মেন্দ্রের দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে গেলেও, আপত্তি ছিল না প্রথম স্ত্রীর। তিনিও বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি কখনওই। বরং নিজের স্বামীর হয়ে প্রকাশ্যে সওয়াল করেছিলেন।
এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ কৌর প্রশ্ন তুলেছিলেন, কার এত বড় সাহস, আমার স্বামীকে রমণীমোহন বলছেন? এই ইন্ডাস্ট্রির অর্ধেক মানুষ তো তেমনই। সব নায়কই তো দ্বিতীয় বিয়ে করছেন। উনি সেরা স্বামী না-ই হতে পারেন। কিন্তু উনি আমার সঙ্গে যথেষ্ট ভালভাবেই থাকেন। তবে বাবা হিসাবে উনিই সেরা। ওর সন্তানেরা ওকে খুব ভালবাসে।

হেমা মালিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়েও প্রকাশ কৌর বলেছিলেন, হেমা এতই সুন্দর যে কোনও মানুষ ওর প্রেমে পড়ে যাবে। এমনকি হেমাকে কটাক্ষ করা হলে, তার প্রতিবাদও করেছিলেন প্রকাশ। তবে দাবি করেছিলেন, তিনি হেমার জায়গায় থাকলে কখনওই এমনটা করতেন না।
উল্লেখ্য, হেমাকে বিয়ে করার অনেক আগে বলিউডের আর এক অভিনেত্রীকে নিয়ে মুগ্ধ ছিলেন ধর্মেন্দ্র। তিনি শুধু অভিনেত্রী নন। সেই সময়ের জনপ্রিয় গায়িকাও ছিলেন। এমনকি, সেই অভিনেত্রী নাকি অভিনয়ের ব্যাপারে ধর্মেন্দ্রকে অনুপ্রেরণাও জোগাতেন।
নিজেই এক পুরনো সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্র জানিয়েছিলেন, অভিনেত্রী তথা গায়িকা সুরাইয়াকে তার পছন্দ ছিল। তাঁকে দেখেই নাকি অভিনয়ে উৎসাহ পেতেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়। সুরাইয়ার রূপেরও পূজারী ছিলেন তিনি।

সুরাইয়ার ছবি ‘দিললগি’ প্রায় ৪০ বার দেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র! ১৯৪০-এর মাঝামাঝি থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত মোচ ৭০টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সুরাইয়া। ৩৩৮টি গান গেয়েছিলেন। তাঁর গানেও ডুবে থাকতেন ধর্মেন্দ্র। এককথায়, সুরাইয়ার রূপ ও গুণের একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন বলিউডের ‘হি ম্যান’।
শুধুই অনুরাগ নয়, ধর্মেন্দ্র একসময় সুরাইয়ার প্রেমেও পড়েছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু সুরাইয়া পছন্দ করতেন অভিনেতা দেব আনন্দকে। কয়েকটি ছবিতে তাঁরা জুটিও বেঁধেছিলেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সুরাইয়া ও দেব আনন্দ সম্পর্কে ছিলেন। তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও শোনা যায়। কিন্তু রাজি ছিল না সুরাইয়ার পরিবার।
এর পরে আর বিয়ে করেননি সুরাইয়া। ১৯৬৩ সালে বিনোদনজগৎ থেকে অবসর নেন সুরাইয়া। ২০০৪ সালে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় অভিনেত্রী-গায়িকার। বহু শারীরিক জটিলতা দেখা গিয়েছিল তার। শেষকৃত্যের দিনও পছন্দের নারীকে দেখতে গিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। শোকে ভেসেছিলেন তিনি।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :