ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

পাঁচদিনের মাথায় আজও তিন ভূমিকম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক | নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৫:২৩ পিএম পাঁচদিনের মাথায় আজও তিন ভূমিকম্প

গত শনিবার দেশে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে আবারও আজ বৃহস্পতিবার তিনবার দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হলো। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল চারটা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে সবশেষ কম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৩ দশমিক ৬।

ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিলো মাত্র ১০ কিলোমিটার। আর কেন্দ্র থেকে টঙ্গির দূরত্ব ছিলো ২১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সেন্টারের ওয়ারলেস সুপারভাইজার গণমাধ্যমকে বলেন, বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল।

এর আগে বুধবার দিনগত রাত এবং বৃহস্পতিবারের প্রথম প্রহরে ৩টা ২৯ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে বঙ্গোপসাগর ও ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, গভীর রাতে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৪.০। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিলো মাত্র ১০ কিলোমিটার। আর কেন্দ্র থেকে টেকনাফের দূরত্ব ছিল ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

একই তথ্য জানিয়েছে ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজিও। সংস্থাটি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে দেশটির ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরের দূরত্ব ছিলো ৩৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণে।

অন্যদিকে ভারতের মেঘালয়ে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্প, যেটি সিলেটের বাসিন্দারাও অনুভব করেছেন, তার মাত্রা ছিলো ৩.৪। কেন্দ্র থেকে সিলেটের দূরত্ব ছিলো ২৪ কিলোমিটার উত্তরে।

বিশেষজ্ঞরা বার বারই বলে আসছেন, ডাউকি চ্যুতি ভারতের মেঘালয় অঙ্গরাজ্যে (বাংলাদেশের উত্তরে) শিলং মালভূমির দক্ষিণ সীমানা বরাবর একটি প্রধান ভূ-চ্যুতি যা উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশসহ সংলগ্ন অঞ্চলের জন্য বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ঝুঁকির উৎস হতে পারে।

তবে সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেছেন, সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এমন কোনো ডাটা আমাদের অফিসে রেকর্ড হয়নি।

গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওইদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিলো নরসিংদীর মাধবদী।

শুক্রবারের মাঝারি মানের ওই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত সারাদেশে ১০ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে মাথায় ইট খসে পড়ে ও আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে সারাদেশে অন্তত ৪ শতাধিক মানুষ আহত হন।

এর পরদিন শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটেও দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মৃদু ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিলো নরসিংদীর পলাশে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিলো ৩ দশমিক ৩।

পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরমধ্যে প্রথম ভূ-কম্পনটি অনুভূত হয় সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে। মাত্রা ছিলো ৩ দশমিক ৭।

সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয় ভূ-কম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিলো ৪ দশমিক ৩। এরমধ্যে প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা, আর দ্বিতীয়টির উৎপত্তিস্থল ছিলো। নরসিংদীতে।

Side banner
Link copied!