ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
প্যাকেজভিত্তিক ‘মাদক বিশেষ সেবা’

কক্সবাজারে অনিয়ন্ত্রিত স্পা সেন্টারে চলছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম কক্সবাজারে অনিয়ন্ত্রিত স্পা সেন্টারে চলছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

কক্সবাজারের হোটেল–মোটেল জোনে অবস্থিত আলোচিত বেশ কয়েকটি স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, বাহারি সাজে সজ্জিত এই স্পাগুলোর ভেতরে বৈধ বডি মেসেজের নামে দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যক্রম ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েকটি স্পায় বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন কক্ষে গ্রাহকদের জন্য রাখা হয় ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক সামগ্রী। সেখানে প্যাকেজভিত্তিক ‘মাদক বিশেষ সেবা’ চালানোর অভিযোগও রয়েছে। সিসিটিভির কঠোর নজরদারিতে নিরাপত্তাকর্মীরা বাইরে অবস্থান করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক স্পা মাদকবিক্রেতাদের অর্থায়নে চলে। মেসেজ রুম ব্যবহার হয় মাদকসেবনের নিরাপদ জায়গা হিসেবে। এছাড়া স্পাগুলোতে কর্মরত নারী থেরাপিস্টদের বড় অংশই স্বামী পরিত্যক্তা বা দরিদ্র পরিবার থেকে আসা। অভিযোগ রয়েছে- এদের অনেককে নিয়মিত বেতন না দিয়ে টিপসনির্ভর করে রাখা হয়। অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মালিকপক্ষ তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী কর্মী জানান, বেতন ঠিকমতো পাই না। ঠিক সময়ে বেতন চাইলেই স্পা সেন্টারের মালিকরা জোর করে রুমে পাঠায়। পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

এছাড়া সবচেয়ে ভয়ের বিষয় স্পার গোপন রুমে অন্তরঙ্গ দৃশ্য ভিডিও করে পরবর্তীতে গ্রাহক ও নারী কর্মীদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়। কেউ চাকরি ছাড়তে চাইলে দেখানো হয় ওই ভিডিও। এতে আতঙ্কে অনেকেই নীরব থাকেন।

আরেক তরুণী বলেন, চাকরি ছাড়তে চাইলেই বলে ভিডিও আছে। ভয় দেখায়। যে কারণে স্পা সেন্টারে চাকরিতে ঢুকলেই আর বের হওয়া যায় না। নানাভাবে জিম্মি করে রাখেন মালিকরা। এদিকে পর্যটকরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ব্ল্যাকমেইলের ভয়েই অনেকেই অভিযোগ করতে সাহস পান না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কক্সবাজারে অর্ধশতাধিক স্পা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। বেশিরভাগ স্পাতেই নেই প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বা কোনো সরকারি নিবন্ধন। এভাবে স্পার নামে অপরাধ চললে পর্যটকরা কক্সবাজারে এসে নানা বিপদের সম্মুখীন হবে। পাশাপাশি সারাদেশে কক্সবাজারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, যেসব স্পায় দেহব্যবসা, মাদক বা ব্ল্যাকমেইলের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। গোপন নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন গোল্ডেন স্মার্ট তাই স্পা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে এটাও খতিয়ে দেখা হবে।

যদিও স্থানীয়দের দাবি, অভিযান শেষে প্রভাবশালী চক্র আবার কার্যক্রম শুরু করে দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত স্পা সেন্টার যৌনবাহিত রোগ ও মাদকের বিস্তার বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করছে। এক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন, এসব স্পা কেবল অপরাধের কেন্দ্র নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি।

কালের সমাজ/এসআর

Side banner
Link copied!