কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। একটি পুকুরে তেলজাতীয় বিষাক্ত পদার্থ পড়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। দীর্ঘ দুই বছরের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিন খামারি ভাই।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মনোহরপুর পূর্বপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন মাদ্রাসা সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কের পাশে অবস্থিত প্রায় ১০০ শতাংশ আয়তনের পুকুরটিতে অসংখ্য মাছ পানির ওপর মরে ভেসে আছে। পুরো পুকুরজুড়ে যেন নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধতা আর হতাশার দৃশ্য।
জানা গেছে,মনোহরপুর পূর্বপাড়া এলাকার তৈয়ব আলী ভূঁইয়ার তিন ছেলে- খামারী মোহাম্মদ বিল্লাল ভূঁইয়া, বকুল ভূঁইয়া ও বরকাত ভূঁইয়ার- যৌথ উদ্যোগে প্রায় দুই বছর আগে পুকুরটি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে মাছগুলো বড় করেছিলেন তারা।

পবিত্র রমজান মাসের ২০ রোজার দিকে মাছ বিক্রি করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিন ভাই। সেই স্বপ্নকে ঘিরেই চলছিল তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম।কিন্তু রাতের আঁধারে যেন সব স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যায়।
খামারিদের ধারণা, হাইওয়ে সড়কের পাশে পুকুরটি হওয়ায় কোনো তেলবাহী যানবাহন থেকে রাস্তার পাশে তেল বা কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ ফেলে দেওয়া হয়। পরে সেগুলো পুকুরের কিনারা দিয়ে পানিতে মিশে যায়। এতে পানিতে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং পুকুরের প্রায় সব মাছ মারা যায়।

পরদিন সকালে পুকুরে এসে যখন তারা পানির উপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখেন, তখন যেন তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। চোখের সামনে দুই বছরের কষ্ট আর স্বপ্নের মাছগুলো একের পর এক ভেসে উঠছে- এই দৃশ্য দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন ভাই পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কেউ মাথায় হাত দিয়ে বিলাপ করছেন, কেউ আবার পুকুরের চারপাশে ঘুরে ঘুরে মৃত মাছগুলোর দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মাঝে মাঝে চোখের পানি মুছতে মুছতে বলছেন- আমাদের দুই বছরের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।

স্থানীয়দের অনেকেই এসে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এত বড় ক্ষতির বেদনা যেন কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছেন না তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা জানান, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলও বলছেন, সড়কের পাশে এভাবে তেল বা রাসায়নিক বর্জ্য ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশ ও মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।
কালের সমাজ/এমএসএম/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :