ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কচুরিপানার নিচে চাপা পড়েছে সোনালী স্বপ্ন—কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ | এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম কচুরিপানার নিচে চাপা পড়েছে সোনালী স্বপ্ন—কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ

ধানক্ষেতের আইল আর কাদামাটির সরু পথ পেরিয়ে সামনে এগোলেই চোখে পড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যেখানে থাকার কথা ছিল পাকা ধানের সোনালী শীষের দোলা, সেখানে এখন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কচুরিপানার ঘন সবুজ স্তর। সেই স্তরের নিচেই চাপা পড়ে আছে হাজারো কৃষকের পরিশ্রম, স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার শেষ সম্বল।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার কালী নদীর তীরবর্তী কাতারকান্দি, মাধবদী ও লালপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে নেমে এসেছে এক নীরব বিপর্যয়। বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ও ঘের এলাকায় আগে থেকেই জমে থাকা কচুরিপানা এখন ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ধানক্ষেতজুড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সবুজ ধানের মাঠ ঢেকে যাচ্ছে কচুরিপানার আগ্রাসী স্তূপে—যেন এক নীরব ধ্বংসযজ্ঞ গ্রাস করে নিচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ীর ঘের ও খামারকেন্দ্রিক কার্যক্রমের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা সেখানে জমে ছিল। বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই কচুরিপানাই এখন ভেসে এসে শত শত একর ফসলি জমির ওপর ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কচুরিপানার এই বিস্তারকে কৃষকরা এখন “নীরব বর্বরতা” হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের ভাষায়, এটি শুধু আগাছা নয়—এটি এমন এক আগ্রাসন, যা এক রাতেই বছরের পর বছরের পরিশ্রমকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন এই ধানটাই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। এখন চোখের সামনে সব কচুরিপানার নিচে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি… আরেক কৃষকের হতাশা মিশ্রিত ক্ষোভ, “ঋণ করে চাষ করেছি। ফসল নেই, আয় নেই। এই কচুরিপানার আগ্রাসনে আমরা শেষ হয়ে গেলাম।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে কচুরিপানার বিস্তার অব্যাহত থাকলে শুধু চলতি মৌসুম নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে এবং বহু কৃষক চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কালী নদী ও সংলগ্ন খাল ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা অপসারণ এবং ঘেরকেন্দ্রিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পাঠ ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলমের প্রতি। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই নীরব কৃষি বিপর্যয় থেকে কৃষকদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!