ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে সৌদির অভিনব উদ্যোগ

ধর্ম ডেস্ক | জুন ২, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে সৌদির অভিনব উদ্যোগ

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের ব্যবহৃত লাখ লাখ ইহরামের কাপড় ফেলে না দিয়ে সেগুলোকে পরিবেশবান্ধব সম্পদে রূপান্তর করার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। 

‘টেকসই ইহরাম’ নামের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় গত এক বছরে হাজিদের ব্যবহৃত কাপড় পুনর্ব্যবহার (রিসাইকেল) করে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র সুলতান আল-হার্থি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এই উদ্যোগটি মূলত দেশটির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে, বিশেষ করে জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সংগতিপূর্ণ।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, হজের সময় পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুটি সাদা সুতি কাপড় বা ইহরাম পরা আবশ্যক, যা সব ধরনের সামাজিক বা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সাম্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ ১০ জিলহজ জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও চুল কাটার পর হাজিরা ইহরামের অবস্থা থেকে বের হন এবং তাওয়াফ শেষে স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে আসেন। এরপরই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় উদ্বৃত্ত বা বর্জ্য হিসেবে থেকে যায়।

সুলতান আল-হার্থি বলেন, এই প্রকল্প পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। ফেলে দেওয়া ইহরামের কাপড় দিয়ে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করায় বর্জ্য পরিবহন এবং ডাম্পিংয়ের খরচ অনেকটাই কমেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০টি খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হয়েছে, যা চক্রাকার অর্থনীতির (সার্কুলার ইকোনমি) একটি দারুণ উদাহরণ।

পরিবেশগত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে ২১১ টনেরও বেশি কাপড়ের বর্জ্য আবর্জনার স্তূপে (ল্যান্ডফিল) যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা হজের মৌসুমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া হজের সময় চালানো বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ হাজি পরিবেশ সুরক্ষার এই কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন।

প্রকল্পের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানা গেছে, প্রথমে পবিত্র স্থানগুলোর নির্দিষ্ট বুথ থেকে ব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো কঠোরভাবে বাছাই করে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়। শতভাগ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পরই শুধু এগুলো দিয়ে নতুন পণ্য তৈরির কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াজাত করা কাপড় দিয়ে আকর্ষণীয় ব্যাগ, বালিশ, বিভিন্ন ধরনের কভার এবং উপহার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সফলতার পেছনে সরকারি, বেসরকারি এবং অলাভজনক ২২টি সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্ব কাজ করছে। শুধু কাপড়ই নয়, হজের সময় বেঁচে যাওয়া উদ্বৃত্ত খাবারকে জৈব সারে রূপান্তর করার জন্যও কাজ করছে জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। এই সফল মডেলটি আগামী দিনে সৌদি আরবের অন্যান্য বড় প্রকল্পেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

সূত্র: আরব নিউজ

 

Link copied!