স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কেটে গিয়েছে কয়েকদিন। তারপরেও ফাইনাল স্বচ্ছভাবে হয়েছিল কি না, আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ ছাড়তে `বাধ্য` করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে চর্চা অব্যহত রয়েছে।
সেই জল্পনায় ঘি ঢাললো একটি অডিও টেপ। যা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে অডিও রেকর্ডিংয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট ক্লদিও (চিকি) তাপিয়ার কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে চিকি তাপিয়াকে ফাইনালের বলতে শোনা গিয়েছে, কেন ম্যাচ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই আর্জেন্টিনার!
অডিও রেকর্ডিংয়ের ঠিক কী বলেছেন তাপিয়া?
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্টকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, আর্জেন্টিনা ম্যাচ না হারলে ১০ বছরের নির্বাসন নেমে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০৩০ ও ২০৩৪ - দুটি বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না আর্জেন্টিনা।
কিন্তু কেন?
অডিও রেকর্ডিংয়ে তাপিয়াকে বলতে শোনা গিয়েছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার পর `ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার` বলে মাঠেই যে ব্যানার তুলে ধরেছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজরা, তা নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করেছে ইংল্যান্ড। সেই নালিশের ভিত্তিতে কড়া শাস্তি নেমে আসতে পারে আর্জেন্টিনার ওপর। প্রথমেই তাদের ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা আটকে যেতে পারে। এছাড়া দশ বছরের জন্য নির্বাসিত হতে পারে আর্জেন্টিনা। সেক্ষেত্রে পরের দুটি বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যাবে না আর্জেন্টিনাকে। ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিয়ে ভীষণই কড়া আইন রয়েছে ফিফার। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে কড়া শাস্তি হতে পারত।
বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, সেই নির্বাসন এড়াতেই নাকি রফা হয়েছিল, আর্জেন্টিনা ফাইনালে খেলবে এবং হারবে। প্রশ্ন উঠছে, তা না হলে ফকল্যান্ড ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্য়বস্থা নেওয়া হল না কেন?
যদিও অডিও ক্লিপ নিয়ে বা সেটা আদৌ সত্যি কি না, তা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। ম্যাচ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল আর্জেন্টিনা, এরকম যে দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, তা নিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
তিনি বলেছেন, `আমি সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আপনারা কী বলছেন, তা নিয়ে কোনও ধারণা নেই।`
কালের সমাজ/এসআর

