ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাগুরার কাঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম মাগুরার কাঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়

মাগুরার রসালো ও সুস্বাদু কাঁঠাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অনন্য স্বাদ, উৎকর্ষ ও মিষ্টি সুগন্ধের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় মাগুরার কাঁঠালের রয়েছে আলাদা পরিচিতি। 

আর এই ফলকে কেন্দ্র করেই জেলার শালিখা উপজেলার সীমাখালী বাজারে গড়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁঠালের হাট। পুরো মৌসুমজুড়ে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে হাজার হাজার কাঁঠালের বেচাকেনা। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে এই জাতীয় ফল।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত ও সঠিক পরিচর্যার কারণে জেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকেই পাইকাররা সরাসরি ফল কিনে নেয়ায় কৃষকরা পাচ্ছেন ন্যায্যমূল্য। ফলে এক সময় শুধু গৃহস্থালির ফল হিসেবে বিবেচিত কাঁঠাল এখন মাগুরার কৃষকদের লাভজনক বাণিজ্যিক ফসলে রূপ নিয়েছে। মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে পাকা কাঁঠালের মিষ্টি সুবাস এখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে কাঁঠাল নিয়ে জড়ো করা হচ্ছে সীমাখালী বাজারে। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও খুলনাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা তা নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আকরাম মোল্যা জানান, “সীমাখালী বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে আমরা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাই। বেচাকেনা ও ব্যবসায়িক মুনাফা ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই এ হাটে আসি।”

কৃষক মো. হাসেম ও বাগান মালিক বেলায়েত শেখ বলেন, “মাগুরার কাঁঠালের মান অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে সেরা। কম খরচে বেশি লাভ পাওয়া যায়। এমনকি গবাদিপশুর প্রিয় খাদ্য হিসেবে কাঁঠালের পাতাও আলাদা দামে বিক্রি করা যায়।”
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে কাঁঠালের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আধুনিক উপায়ে কাঁঠাল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশে রপ্তানির সুবিধা বাড়ানো গেলে এটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!