ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসি মহত্ত্বে বিশেষ উপহার পেল কেপ ভার্দের ভোজিনিয়ার পরিবার

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ২৩, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম মেসি মহত্ত্বে বিশেষ উপহার পেল কেপ ভার্দের ভোজিনিয়ার পরিবার

বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা জেতা হয়নি, তবে মাঠের বাইরের একটি নীরব মানবিক উদ্যোগে আবারও কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন সাংবাদিকের দাবি, ফাইনালের আগে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পরিবারের চার সদস্যের জন্য নিজের খরচে ম্যাচের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ক্যামেরার আড়ালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

বিশ্ব ফুটবলে লিওনেল মেসির পরিচয় শুধু অসাধারণ এক ফুটবলার হিসেবেই নয়, মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সমান উজ্জ্বল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে তার নেওয়া একটি নীরব উদ্যোগ সেই পরিচয়কেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পরিবারের চার সদস্যকে নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার সুযোগ করে দেন মেসি। ম্যাচের টিকিটের পুরো খরচই বহন করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত রাউন্ড অব ৩২-এর সেই আলোচিত ম্যাচে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি মেসিদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জিতলেও ভোজিনহার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করে ফুটবল বিশ্বকে।

ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়াকে আলিঙ্গন করে মেসি বলেন, "তুমি অসাধারণ। তোমার দেশের তোমাকে নিয়ে গর্ব করা উচিত।" পরে ভোজিনহা জানান, ফুটবল জীবনে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান স্বীকৃতিগুলোর একটি ছিল মেসির মুখে শোনা এই কথাগুলো।

সেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্কই যেন নতুন রূপ পায় বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে। জানা যায়, ভোজিনিয়ার পরিবারের সদস্যরা টিকিটের উচ্চমূল্যের কারণে স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখতে পারবেন না। বিষয়টি জানতে পেরে নিজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চারটি টিকিটের ব্যবস্থা করেন মেসি, যাতে তারা গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন।

শুধু ভোজিনিয়ার পরিবারই নয়, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যারা ফাইনাল দেখতে পারছিলেন না, এমন আরও কয়েকজন সমর্থকের জন্যও টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরির জানান, মেসি কোনো প্রচারের জন্য নয়, নিঃস্বার্থভাবেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন।

ফাইনালে অবশ্য স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ে লামিনে ইয়ামালের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে স্পেন।

তবে মাঠের ফলাফলের আড়ালেও আলো ছড়িয়েছে মেসির মানবিকতা। ট্রফি জেতা না হলেও উদারতা, সহমর্মিতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসায় আরেকবার নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ভোজিনিয়ার পরিবারের জন্য তার নীরব এই উপহার এখন বিশ্বকাপের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী অজানা গল্প হিসেবে আলোচনায়।

কালের সমাজ/এসআর

খেলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!