দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার (১৭ জুন) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন, শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়। ‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দশ’।
ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, আশুরা দিবসের সঙ্গে বহু ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা জড়িত। এ দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং নফল ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখে এর কারণ জানতে চান। তারা জানান, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ ঘটনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে তারা রোজা পালন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণে মুসলমানরাই অধিক হকদার। এরপর তিনি নিজে আশুরার রোজা পালন করেন এবং মুসলিম উম্মাহকে তা পালনের নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি: ৩৩৯৭; সহিহ মুসলিম: ১১৩৯)
ইসলামি শিক্ষায় আশুরার রোজা পালনের উত্তম পদ্ধতি হলো ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখা। অর্থাৎ ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখাকে অধিক ফজিলতপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পবিত্র আশুরা আত্মত্যাগ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত।
কালের সমাজ/কে.পি

