রেলগাড়ির গার্ড ব্রেক বা পরিচালকের অফিসরুম থেকে প্রতিদিনই অবৈধ্য পথে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিচালক (গার্ড) এবং গার্ডের সহকারীর বিরুদ্ধে। এতে লোকসান হচ্ছে সরকারের।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী জাহানাবাদ এবং বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা-খুলনা-বেনাপোলে প্রতিদিনই চারবার যাতায়াত করে। বেনাপোল এবং খুলনা থেকে ঢাকায় যাতায়াতে (মাত্র ৩.৪৫ মিনিট) সময় ও অর্থ কম লাগে, যে কারণে এই পথের ট্রেন দুটি খুবই জনপ্রিয়। দুই দিন আগেই অনলাইনে এসব ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
সেই সুযোগে অবৈধভাবে পরিচালকের (গার্ডের দুই রুমে) অফিসরুমে প্রতিদিনেই ২০ থেকে ৩০ জন করে যাত্রী বহন করা হয়।
এসব যাত্রীর কাছ থেকে (প্রতিদিন চারবার আপ-ডাউনে) ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছেন গার্ড ও তার সহকারীরা। এতে বিপুল লোকসান হচ্ছে সরকারের।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, গার্ডের সহকারী পপিদুল ইসলাম পনি এসব অবৈধভাবে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করেন। যেন তার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে জাহানাবাদ ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন।
তিনি অবৈধ যাত্রী বহনের জন্য গার্ড রুমে প্লাস্টিকের ২৫ থেকে ৩০টি চেয়ার কিনে রেখেছেন। ওই রুমে গার্ডের মূল্যেবান টেবিলের ওপরেও বসানো হয় যাত্রী। প্রায় প্রত্যেক স্টেশনেই রয়েছে পপিদুল ইসলাম পনির এজেন্ট।
কথা হলে পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম আতিক এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি সহকারী পনিরের ওপর দায় চাপিয়ে দেন।
গার্ডের সহকারী পনির বলেন, ‘এই টাকার ভাগ ওপর মহলেও দিতে হয়।’
বিভাগীয় ব্যবস্থাপক পাকশি (ডি আর এম) মো. লিয়াকত শরীয় খান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, পনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

