ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

দৌলতপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে মাটি ভরাটে অভিযোগ

খুলনা ব্যুরো | আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম দৌলতপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে মাটি ভরাটে  অভিযোগ

খুলনা দৌলতপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে গোপালগঞ্জ এবং গবেষণা প্রকল্প শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৭১ লক্ষ সাত হাজার সাতশত পঁয়ষট্টি টাকার মাটির কাজে চরম দূনীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গ্রিন ট্রেডার্স নামে গাজীপুরের ঠিকাদার প্রতিষ্টানকে ১২ জুন ২০২২ সালে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ২৯ ডিসেম্বর মাটি ভরাটের কাজ শেষ করার কথা ছিল।

তবে কাজ শেষ করেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন দৌলতপুর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মাটি ভরাটের কাজটি করেছে। টেন্ডারে উল্লেখ করা রয়েছে বেলে দোআঁশ মাটি দিয়ে ভূমির উন্নয়ন (ভরাট)কাজ করতে হবে। এক বর্গফুট মাটির মুল্য প্রায় ২৬ টাকা। সেখানে মাটি-ভরাট না করে ৫ টাকা ৩০ পয়সা রেটে ড্রেজার দিয়ে নদীর থেকে লবণাক্ত বালি ভরাট করে ভূমি উন্নয়ন করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,অবশেষে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রকল্পের কাজের দুই হাজার বর্গফুট মাটি ফেলেছেন শুধু।মাটি সরবরহকারী সুত্রে জানা যায়,৮০/৯০ বর্গফুটের ১৫০ ট্রাক ও ১৫০ বর্গফুটের ৫০ ট্রাক মাটি দিয়েছি।বাকি সব নদী থেকে ড্রেজার পাইপ এর মাধ্যমে লবণাক্ত বালি ফেলা হয়েছে।

দৌলতপুর সরেজমিন কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের অফিস কক্ষের পিছনে অথাৎ পূর্বপাশে ভ্যাকু দিয়ে বড় বড় গর্ত খুড়ে তার মধ্যে বালি ফেলে ঢেকে দেয় ঠিকাদার। বেলে দোআঁশ মাটি দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে লবণাক্ত নদীর বালি দেয়ার কারণে এই গবেষণা কেন্দ্রটির শতাধিক ফলস ও বনজ গাছ মারা গিয়েছে। যাতে করে ভিতরে মাদার ফলের গাছ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে গিয়েছে। মাটির পরিবর্তে নদী থেকে লবণাক্ত বালি এনে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে মিষ্টি পানির সংরক্ষিত জলাধার ১০০ বছরের পুকুরটি ভরাট করা হয়েছে। যে পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করা হতো।কৃষি বিভাগ যেখানে মিষ্টি পানি সংরক্ষনের জন্য নতুন নতুন পুকুর খনন করছে। তার উল্টো চিত্র দৌলতপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিইটে।

সরেজমিনে এলাকাবাসি বলেন,আমরা দেখেছি দৌলতপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে রাতের অন্ধকারে গর্ত খুড়ে বালি ফেলে ভ্যাকু দিয়ে তা ঢাকা হয়েছে। এর ভিতরে লবণাক্ত বালি ফেলার কারনে বহু ফলের গাছ ছিল তা মরে গেছে। ভরাট করা হয়েছে শত বছরের পুরাতন পুকুর।পরে পশ্চিম পাশে একটি কৃত্রিম আকারের বড় গর্ত খনন করেছে। কৃত্রিম গর্ত খনন করে সেই মাটি রাতের আঁধারে বালির উপরিভাগে এক ফুট করে বিছিয়ে দিয়েছে। ঠিকাদারের সাথে জোকসাজসে তৎকালীন উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ও অত্র অফিসের মাটির কাজে গঠিত কমিটির সভাপতি (২০২২/২৩ সালে) কামরুল ইসলাম টাকা আত্মসাৎ করেছে।

প্রতিষ্টানের গাছ কাটার জন্য কমিটি করতে হয়,তা না করে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে সরকারি সম্পদ প্রায় শতাধীক ফলজ গাছ কাটা হয়েছে।যার মধ্যে রয়েছে নারকেল, সুপারি, আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, শিশু, কড়াই সহ বিভিন্ন গাছ কর্তন করে।

মাটির কাজের বিষয়ে বর্তমান অফিস প্রধান কামরুল ইসলাম বলেন,মাটির কাজ যখন হয়েছে তখন ডক্টর হারুন অর রশিদ ছিলেন,আমি মাটির কাজে প্রকল্পের কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম খরচ করেছে অফিস প্রধান।
অনুসন্ধানে জানা যায়,দৌলতপুর কৃষি গবেষণার সাবেক ইনচার্জ ড. হারুন অর রশিদ আওয়ামীলীগ আমলে খুলনা ও কয়রায় নিজস্ব এজেন্ট ব্যাংক‍‍`র শাখা,ফ্লাট ও জমিসহ বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন।

দৌলতপুর কৃষি গবেষণায় ইনস্টিটিউটের সাবেক ইনর্চাজ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশিদ বলেন,মাটির কাজে কোন অনিয়ম হয়নি ঠিকভাবে কাজ করা হয়েছে। কামরুল ইসলাম তখন মাটির কাজের কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার হাত দিয়েই সব টাকা খরচ করেছেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কয়রায় তার নিজের একটি এজেন্ট ব্যাংক‍‍`র শাখা রয়েছে  স্বীকার করে বলেন এতে আর কয় টাকা লাগে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে গোপালগঞ্জ এবং গবেষণা প্রকল্প শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এম এম কামরুজ্জমান বলেন, আমি প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন করার জন্য মাটি দিয়েই ভরাটের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। যেহেতু কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সেখানে ঠিকাদার মাটি দিয়ে ভরাট করার চুক্তি বদ্ধছিল,লবণাক্ত বালি দিয়ে ভরাট করার কথা ছিল না। কার্যাদেশ পুকুর ভরাট করা উল্লেখ ছিল না। কিন্তু অফিস ইনচার্জ ডক্টর হারুন সাহেব কিভাবে পুকুরটি ভরাট করল আমার বোধগম্য নয়।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!