ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈশ্বরদীর টিপু সুলতান সড়ক যেন মরণফাঁদ, খানাখন্দে আটকে থাকে গাড়ি

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম ঈশ্বরদীর টিপু সুলতান সড়ক যেন মরণফাঁদ, খানাখন্দে আটকে থাকে গাড়ি

গর্ত, খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতায় বেহাল ঈশ্বরদীর অতি গুরুত্বপূর্ণ টিপু সুলতান সড়ক। প্রতিদিনই এ সড়কে যানবাহন বিকল হওয়া, আটকে পড়া ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, শ্রমিক, চালকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি পাকা সড়কের বড় গর্তে পড়ে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আরও দুটি যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কথা বলা হলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে টিপু সুলতান সড়কটি সংস্কারের কথা বলা হলেও কাজ হয়নি। গত ছয় মাস ধরে সড়কটির টেন্ডার হওয়ার কথা জানানো হলেও এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে রয়েছে। সড়কের পাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে একদিন বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর্যন্ত সড়কে পানি ও কাদা জমে থাকে। আবার বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

টিপু সুলতান সড়কটি ঈশ্বরদী শহর থেকে সাঁড়াগোপালপুর, বকশিরচক-তালতলা হয়ে ঈশ্বরদী ইপিজেড, পাকশী পেপার মিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প হয়ে লালন শাহ সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ ঈশ্বরদী পৌরসভার আওতাধীন। সড়কের পাশের কিছু অংশ রেলওয়ে এবং অন্য অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক, বিদেশি নাগরিকসহ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, বালুবাহী ট্রাক্টর, ড্রাম ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল করায় দিন-রাত ব্যস্ত থাকে সড়কটি।

স্থানীয় বাসিন্দা তানজিরুল আলম মিটো বলেন, ‘এমনিতেই রাস্তাটি ভাঙাচোরা। এর সঙ্গে রাস্তার দুই পাশে ঝোপঝাড় থাকায় সন্ধ্যার পর চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে কাদা-পানি জমে বড় বড় গর্ত দেখা যায় না। তখন প্রায়ই যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়।’

ইপিজেডে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা জানান, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে গাড়ি আটকে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জব্বার বলেন, ‘সড়কটির ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ভাঙা অংশে জমে থাকায় অল্প সময়েই সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে এ সড়কের পাশ দিয়ে পুরোনো পাইলট লাইন তুলে নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হলে সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক সংস্কারের জন্য রেলওয়েকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে ঈশ্বরদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় সড়কটির সার্ভে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে অল্পদিনের মধ্যেই সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডারের ব্যবস্থা করা হবে।’

ঈশ্বরদী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সড়কের যানবাহন চলাচলের ধারণক্ষমতা ২০ টনের বেশি নয়। অথচ প্রতিদিন অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচল করে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!