ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মহম্মদপুরে হাজারো শালিকের কোলাহলে মুখরিত চারিপাশ

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা) | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম মহম্মদপুরে হাজারো শালিকের কোলাহলে মুখরিত চারিপাশ

মধুমতির বুকে তখন পড়ন্ত বিকেলের রং। ধীরে ধীরে নেমে আসছে সন্ধ্যা। হঠাৎ দূর আকাশে দেখা যায় অসংখ্য কালচে ডানার ঢেউ। মুহূর্তেই ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক এসে বসতে শুরু করে নদীর পূর্ব পাড়ের মেহগনি গাছগুলোতে। হাজারো পাখির ডানা ঝাপটানি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের মধুমতি নদীর কোল ঘেঁসে পূর্ব পাড়ের এলাংখালী ঘাট থেকে দক্ষিণ দিকের প্রায় ব্রীজ পর্যন্ত বেশকিছু মেহগনি গাছ এখন যেন শালিকদের নিরাপদ ঠিকানা। ভোরের আলো ফুটতেই দলবেঁধে পাখিগুলো উড়ে যায় খাবারের সন্ধানে। সারাদিন মাঠ-ঘাটে বিচরণ শেষে বিকেল গড়াতেই আবার ফিরে আসে আপন নীড়ে। ফিরে আসার আগে খোলা মাঠ, মাটির রাস্তা ও আশপাশের গাছে বসে তারা যেন নিরাপদ পরিবেশটি পরখ করে নেয়। এরপর মুহূর্তেই আকাশ ঢেকে যায় শালিকের ঝাঁকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক সময় জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে গাছপালা নিধন ও শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এলাকায় শালিকের দেখা মিলত খুব কম। সেই শূন্যতা কাটিয়ে এবার হঠাৎ করে হাজার হাজার শালিকের আগমন প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে। মধুমতির পাড়ের মেহগনি গাছগুলো পরিণত হয়েছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে।
স্থানীয় খুরশিদ আলম সোহাগ বলেন, “এত শালিক একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি। বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসার দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এদের রক্ষা করা দরকার।”
তবে এই পাখির স্বর্গ যেন কোনোভাবেই শিকারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়; এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা। তাদের দাবি, মধুমতির তীরবর্তী এলাকায় নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হোক। প্রকৃতির এই নির্মল আয়োজন রক্ষা করা গেলে শালিকের কলকাকলিতে মধুমতির কোল ঘেঁসে গড়ে উঠতে পারে জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য আশ্রয়স্থল।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাত জাহান শিলু বলেন, “শালিক পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পেলে এখানে পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে।

কালের সমাজ/কে.পি

 

 

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!