কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বড় কৈয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনায়েত হোসেনের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও বেতন-ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয়টির চলতি বছরের এসএসসি ফলাফল অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার মাত্র ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন নিয়মিত উপস্থিত না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষকদের তদারকি, পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে?
স্থানীয়দের মতে, শুধু এসএসসি ফলাফল নয়, বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। প্রধান শিক্ষক উপস্থিত না থাকলেও বাহিরে থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নিয়মিত বেতন- ভাতা ভোগ করছেন। যা বেতন-ভাতা সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
সম্প্রতি একাধিকবার সরেজমিনে গিয়েও প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। তার কক্ষে দেখা গেছে, তার চেয়ার ও টেবিলে ধুলো বালি জমে আছে। নাম প্রকাশে একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রধান শিক্ষককে তারা কবে দেখেছে তা মনে মেই।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহ তার দপ্তরকে মেনেজ করেই মাসের পর মাস এনায়েত হোসেন বিদ্যালে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান তারা বিষয়টি জেনেও কোনো ব্যাস্থা নিচ্ছেন না।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষক উপস্থিতি এবং একাডেমিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ নয় বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফলের উন্নয়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির অভিযোগ এবং মাত্র ২৭.২৭ শতাংশ পাসের হার দুটি বিষয়ই এখন যথাযথ তদন্তের দাবি রাখে।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে। তাঁদের প্রশ্ন—যে বিদ্যালয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেখানে যদি দায়িত্বশীলতার সংকট থাকে, তাহলে সেই সংকটের দায় নেবে কে?
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. এনায়েত হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে ব্যস্ত আছি, পরে জানাব। পরে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বড় কৈয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও শিক্ষার মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত তদারকি, শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ে আপনার কি কেনো ভূমিকা নেই? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো বলবেননা বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি আপনি জানার পর ও কেনো আপনাকে লিখত অভিযোগ করতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কিছুই করার নাই।
কালের সমাজ/কে.পি

