ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

মাগুরায় এলজিইডি অভ্যন্তরে আমলকী গাছে সবুজের উৎসব

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা) | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম মাগুরায় এলজিইডি অভ্যন্তরে আমলকী গাছে সবুজের উৎসব

মাগুরা শহরস্থ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয় চত্বরে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ে এক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রাঙ্গণের একটি আমলকী গাছজুড়ে এখন সবুজের রাজত্ব। হালকা সবুজ চিরল পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে পুষ্টিগুণে ভরা ফল ‘আমলকী’।
সাধারণত আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আমলকীর ফলন পাওয়া যায়। বীজ থেকে বংশবিস্তার করা এই উদ্ভিদের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। তবে আজকাল শহরাঞ্চল তো বটেই, গ্রামীণ জনপদেও এই মহামূল্যবান ভেষজ বৃক্ষটি সচরাচর চোখে পড়ে না। শরতের স্নিগ্ধ সোনালী রোদে ভোরের শিশিরে ভিজে উঠছে আমলকীর সবুজ পাতা। ডালজুড়ে ছোট ছোট সবুজ-হলুদাভ ফলের প্রাচুর্য জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের গল্প। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমলকী পিয়ালের কুঞ্জে, কিছু মৌমাছি এখনও যে গুঞ্জে’ চরণের মতোই যেন রূপের পসরা সাজিয়েছে রূপসী প্রকৃতি। প্রকৃতির অনন্য এ দানটির বৈজ্ঞানিক নাম : চযুষষধহঃযঁং বসনষরপধ। এটি ‘চযুষষধহঃযধপবধব’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি পর্ণমোচী বৃক্ষ। ইংরেজিতে একে ‘অসষধ’ বা ‘অসষড়শর’ বলা হয়। অনন্য ও বহুমুখী গুণাবলীর জন্য এ ফলটিকে সংগতভাবেই ‘মাদার অব ফ্রুট’ (গড়ঃযবৎ ড়ভ ঋৎঁরঃ) বা ফলের মা বলে অভিহিত করা হয়। মিষ্টি-টক স্বাদের আমলকীর টক-ঝাল আচার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লোভনীয়। 

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, ‘আমলকী কেবল সুস্বাদুই নয়, বরং ভেষজ ভান্ডারে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টিবিদদের মতে, একটি আমলকীতে পেয়ারা ও কাগুজে লেবুর তুলনায় যথাক্রমে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ থাকে। এছাড়া কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায় এতে। যেখানে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন মাত্র ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন, সেখানে প্রতিদিন মাত্র দুইটি আমলকী খেলেই সেই চাহিদা অনায়াসে পূরণ হয়।’ নিয়মিত আমলকী সেবনে মুখের রুচি বাড়ে। এটি স্কার্ভি বা দাঁতের রোগ প্রতিরোধে অনন্য। পেটের পীড়া, সর্দি-কাশি, রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ এবং লিভার সুস্থ রাখার পাশাপাশি জন্ডিস নিরাময়ে আমলকীর জুড়ি নেই। শুধু ফলই নয়, এর পাতাও নানা ভেষজ চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ. ন. ম. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “আমাদের অফিস ক্যাম্পাসের গাছটিতে প্রতি বছরই প্রচুর আমলকী ধরে। কিছু ফল আমরা খাই, কিছু পাখিতে খায়, কিছু পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্য, উভয়ের জন্যই ইতিবাচক।”

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!