ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক লাফে মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম এক লাফে মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি

রাজধানীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় গতি আনতে মেট্রোরেলের তিনটি বড় প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদিত এসব প্রকল্পের পেছনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাস্তবায়নাধীন দুটি প্রকল্পের সংশোধনীতে এক লাফে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। একনেক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান। আজকের সভায় মেট্রোরেলের মেগা প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত।

প্রতিমন্ত্রী জানান, একনেকের মূল তালিকায় কেবল ‘এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন)’ নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ থেকে জাপান অর্থায়িত আরও দুটি সংশোধিত প্রকল্প একনেক টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

এমআরটি লাইন-১ (প্রথম পাতাল রেল): দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ এই মেট্রোরেল প্রকল্পের (৩১.২৪ কিমি) প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধনীতেই ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা বেড়ে এর নতুন মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এটি মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১১৭.৬৪ শতাংশ বেশি। ২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন): হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনের মূল বাজেট ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। সংশোধনীতে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে নতুন বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন): নতুন যুক্ত হওয়া গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল যোগাবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা এবং বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিব) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ। এই পথের ১৩.১০ কিলোমিটার মাটির ১৬ থেকে ৩৮ মিটার নিচ দিয়ে (হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা) ভূগর্ভস্থ টানেল আকারে নির্মিত হবে এবং বাকি অংশ হবে উড়ালপথ।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!