ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

নানা ভাই বাহিনীর প্রধান‍‍`সহ ১২‍‍`জন কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ

রামপাল উপজেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট | সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম নানা ভাই বাহিনীর প্রধান‍‍`সহ ১২‍‍`জন  কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান‍‍`সহ ১২‍‍`জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার  সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ  তথ্য জানান। তিনি জানান

, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামের দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ‍‍`সহ অদ্যাবধি ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। 

এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী‍‍`সহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ‍‍`সহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৬ টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল‍‍`সহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। 

এসময় তাদের কাছে থাকা ১‍‍`টি এইট শুটার, ১‍‍`টি সিক্স শুটার, ১‍‍`টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১‍‍`টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২‍‍`টি এমথ্রী গ্যাস গান, ২‍‍`টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২‍‍`টি ওয়ান শুটার, ২‍‍`টি এয়ার গান, ২১২‍‍`রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯‍‍`রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০‍‍`রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ০৫‍‍`রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩‍‍`রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪‍‍`টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২‍‍`টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জার‍‍`সহ ৬‍‍`টি ওয়াকিটকি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন:- জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা এবং শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতি‍‍`সহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। 

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‍‍`জিরো টলারেন্স‍‍` নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

কালের সমাজ/কে.পি

 

Link copied!