ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) এস. এম. তরিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। 

বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমে থাকলে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। তাই নিজেদের ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইসলামে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একজন মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে নিয়মিত পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার চর্চা করেন।

এই ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সম্পৃক্ত। প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ মসজিদে সমবেত হন। ফলে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। কিন্তু জানার পরও যদি তা বাস্তবে প্রয়োগ না করি, সেটিই আমাদের বড় সমস্যা। নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সমাজে সাংবাদিক, ইমাম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রভাব রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। 

বিশেষ করে মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতারা জুমার খুতবা ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে মুসল্লিদের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়। নিজের ময়লা নিজেকেই যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে ময়লা না ফেলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
কর্মশালায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। 

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!