ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ করার, প্রতিশোধ নেওয়ার: ইবি শিবির সভাপতি

ইবি | সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ করার, প্রতিশোধ নেওয়ার: ইবি শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেছেন, ‘আমরা আর কোনো অনিয়ম সহ্য করব না। ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অনেক ধৈর্য ধরেছে, অনেক মার খেয়েছে। কিন্তু এখন আর মার খাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ করার, এখন সময় এসেছে প্রতিশোধ নেওয়ার।’

গতকাল রাতে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউসুফ আলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাইভায় অস্বাভাবিকভাবে নম্বর বাড়িয়েছে। ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা নিজেদের দলীয় লোকদের বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ দিতে চায়। এভাবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমরা দেখেছি, এলাকার কিছু সন্ত্রাসীকে চাকরির লোভ দেখিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হয়েছে। গতদিন অস্ত্র হাতে যারা ক্যাম্পাসে এসেছিল, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।’

হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ওঠানোর অভিযোগ তুলে শিবির সভাপতি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান হলে প্রভোস্ট অবৈধভাবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে হলে উঠিয়েছেন। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি জড়িত। শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ অন্য কোনো হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ওঠানো হয়ে থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের হল থেকে বের করে দিতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ দিনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকবেন এবং এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’

শিবির নেতার গায়ে হাত তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর কোনো দিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মীর গায়ে হাত দেওয়ার দুঃসাহস দেখাবেন না। একজন কর্মীর গায়ে হাত দেওয়া হলে, এক বিন্দু রক্ত ঝরানো হলে, তার হাত আমরা ভেঙে দেব। ক্যাম্পাসের পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকে দায়ী থাকতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গে ইউসুফ আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আমরা শুনতে পাচ্ছি। স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, এই ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের এক বিন্দু রক্ত থাকা অবস্থায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যকর করতে হবে।’

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে মনোযোগী হোক। আধিপত্য বিস্তারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করুন। ক্যাম্পাসে এখনো অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়নি, সার্টিফিকেট তুলতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং হলগুলোতে শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।’

বিক্ষোভ মিছিলে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির জিন্দাবাদ’, ‘ভাইভা প্রথার কবর দাও’, ‘ভাইভার নামে প্রহসন, চলবে না চলবে না’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কালের সমাজ/কে.পি
 

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!